গরু ছাড়াই তৈরি হচ্ছিল দুধ, কারখানায় মিলল হাজার হাজার লিটার জেলি

প্রকাশঃ অক্টোবর ৩১, ২০২৬ সময়ঃ ৮:৫৫ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:৫৫ অপরাহ্ণ

গরু ছাড়াই রাসায়নিক উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছিল দুধ। এ জন্য কারখানায় ব্যবহার করা হতো জেলি, সয়াবিন তেল, পানি ও চিনি। পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামের একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে এমন ভেজাল দুধ তৈরির বিপুল পরিমাণ উপকরণ উদ্ধার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) আবুল বাশার নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে পরিচালিত এ অভিযানে ২ হাজার ৭০০ লিটার জেলি, ২০০ কেজি সয়াবিন তেল এবং ৩২০ লিটার প্রস্তুত করা নকল দুধ জব্দ করা হয়। পরে উদ্ধার করা এসব উপকরণ ও নকল দুধ ধ্বংস করা হয়।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, জেলি, সয়াবিন তেল, পানি ও চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে ব্লেন্ডিংয়ের মাধ্যমে দুধের মতো তরল তৈরি করত চক্রটি। পরে সেই নকল দুধ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হতো।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া মমতাজ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যরা প্রথমে কারখানাটিতে উপস্থিত হয়ে নকল দুধ তৈরির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। পরে তাঁরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানান।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় কারখানার মালিক আবুল বাশারকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ কাজে সহযোগিতা করার দায়ে কর্মচারী সবুজ হোসেনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে তাঁকে অতিরিক্ত এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন এনএসআই পাবনা কার্যালয়ের উপপরিচালক এ বি এম লুত্ফুল কবির, ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান এবং উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. নুরুল ইসলাম। ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে সহযোগিতা করে ভাঙ্গুড়া থানা-পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৈডাঙ্গা গ্রামের আবুল বাশারের ওই কারখানায় এর আগেও একাধিকবার অভিযান চালিয়ে নকল দুধ তৈরির উপকরণ পাওয়া গিয়েছিল। তবে এবারই প্রথম তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হলো। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নকল দুধ তৈরি করে বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি করছিলেন তিনি।

স্থানীয়দের দাবি, এসব ভেজাল দুধ পান করে অনেক শিশু পেটের সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা শিশুদের খাদ্যেও ভেজাল মিশিয়ে অবৈধভাবে বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন। এ ধরনের অপরাধ বন্ধে তাঁদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

20G