বলিউডের ‘বার্বি ডল’ ক্যাটরিনা
প্রতিক্ষণ ডেস্ক
বর্তমানে বলিউডের একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেন ক্যাটরিনা কাইফ। ব্রিটিশ নাগরিক ক্যাটরিনা কর্ম ভিসা নিয়ে ভারতে কাজ করছেন। তাঁর প্রকৃত নাম ক্যাটরিনা টার্কুট। বৃটিশ এই সুন্দরী এখন বলিউডের ‘বার্বি ডল’ হিসেবে খ্যাত। আজ তাহলে জেনে নেয়া যাক ক্যাটরিনা কাইফের ‘বার্বি ডল’ হয়ে উঠার গল্প।
জন্ম ও পড়াশোনাঃ
১৯৮৪ সালের ১৬ জুলাই হংকংয়ে জন্মগ্রহণ করা ক্যাটরিনার ছোটবেলা কেটেছে আমেরিকার দ্বীপনগরী হাওয়াইয়ে। লন্ডনে কেটেছে কৈশোর। শিক্ষাজীবন আর বড় হয়ে ওঠা সবই লন্ডনে। তার পিতার নাম মোহাম্মদ কাইফ এবং মাতার নাম সুজানা টার্কুট। তার বাবা ছিলেন ভারতের কাশ্মিরের অধিবাসী এবং মা ছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক। জন্মের সময় ক্যাটরিনার নাম রাখা হয় ক্যাটরিনা টার্কুট। ক্যাটরিনা ছোট থাকতেই তার বাবা-মায়ের মধ্যে ডিভোর্স হয়ে যায়। তারপর থেকে মায়ের সাথেই থেকে যান ক্যাটরিনা। তার মা ছিলেন একজন এনজিও কর্মী। মায়ের সাথে চীন, জাপান, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, পোলান্ড, জার্মানী, বেলজিয়াম, হাওয়াইতে ঘুরেছেন। পড়ালেখার জন্য স্থির সময় পাননি কোথাও। তবে শেষের দিকে লন্ডনে কিছুদিন ছিলেন। ভর্তি হয়েছিলেন স্থাপত্য পড়তে। কিন্তু ভালো লাগেনি। তখন ক্যাটরিনার বয়স ছিল ১৭ বছর।
ক্যাটরিনার পরিবারঃ
ক্যাটরিনার ৬ বোন ও ১ ভাই। বোনেরা হলেন – মিলিসা, সারাহ, ইসাবেলা কাইফ, নাতাশা, সোনিয়া এবং ক্রিস্টিনা। আর একমাত্র ভাইয়ের নাম হলে মাইকেল।
র্যাম্প মডেল দিয়ে শুরুঃ
ক্যাটরিনার বয়স তখন ১৪ বছর। সেসময় তারা হাওয়াইতে থাকতেন। অনেকটা আকস্মিকভাবে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড বৃটিশ এজেন্সি মডেল ওয়ানের প্রতিনিধি হয়ে ‘লন্ডন ফ্যাশন উইক ২০০৩’-এর র্যাম্পে অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে শোবিজে পা রেখেছিলেন ক্যাট। এরপরই তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত বৃটিশ চিত্রনির্মাতা কাইজাড গুস্তাদের নজরে আসেন।
চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশঃ
ক্যাটরিনা অভিনীত প্রথম ছবি ছিল কাইজার গুস্তাদ পরিচালিত ‘বুম’। ২০০৩ সালে বলিউডের এই ছবিতে সাইন করার সময় বলিউড কেন, ভারতই ক্যাটরিনার কাছে ছিল অজানা-অচেনা কোনো গল্পের মতো দেশ। বলিউডের ছবি সম্বন্ধেও ক্যাটরিনার কিছুই জানা ছিল না। এই ছবিটি বলিউড বক্স অফিসে সুপার ফ্লপ করে।
প্রথম ছবিতেই হোচট খেয়ে চলচ্চিত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন ক্যাটরিনা কাইফ। শুধুমাত্র মডেলিংটাই চালিয়ে যেতে থাকেন। ২০০৪ সালে ক্যাটরিনা কাইফ লন্ডন থেকে মুম্বাই আসেন। বেশ ক’টি কনজ্যুমার প্রোডাক্টের মডেল হয়ে ছোটপর্দায় ঝড় তোলেন তিনি। এসময় বলিউডের আরেক তারকা সালমান খানের সাথে পরিচয়, পরিচয় থেকে তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। সালমান খানের সহযোগিতায় আবারও চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নেন। এই সময়ের মধ্যে হিন্দি ভাষাটাও ভালো রপ্ত করে নেন ক্যাটরিনা। ২০০৫ সালে চমৎকার অভিনয় উপহার দেন ‘সরকার’ ছবিতে। যা তাকে তারকা খ্যাতি এনে দেয়।
এর ঠিক পরের বছর ২০০৬ সালে আবার হোচট খান ক্যাটরিনা। অক্ষয় কুমারের সাথে ‘হামকো দিওয়ানা কর গায়ে’ চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়িকভাবে সলফতার মুখ দেখতে পারেনি। ২০০৭ সালে এসেই আবার সফলতার মুখ দেখেন ক্যাটরিনা। ‘নমস্তে লন্ডন’ চলচ্চিত্রটিতে ব্রিটিশ ও ভারতীয় দুই ধরনের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন ক্যাটরিনা। এই ছবিতে ক্যাটরিনার বিপরীতে অভিনয় করেন অক্ষয় কুমার। এর পরের ‘আপনে’ ছবিটিও আহামরি সফলতার মুখ দেখে নি। কিন্তু ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পার্টনার’ ও ‘ওয়েলকাম’ চলচ্চিত্র দুটি ব্যবসায়িকভাবে সফলতা লাভ করে এবং ব্লকবাস্টারের মর্যাদা লাভ করে।
শুধুমাত্র নায়িকা চরিত্রেই নয়। খলনায়িকা হিসেবেও অভিনয় করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ক্যাটরিনার। ২০০৮ সালে ‘রেস’ চলচ্চিত্রে খলনায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেন ক্যাটরিনা। একই বছর অক্ষয় কুমারের বিপরীতে অভিনীত ‘সিং ইজ কিং’ চলচ্চিত্রটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক সফলতা লাভ করে। কিন্তু এর পরের ছবিতেই আবার অসফল। সুভাষ গাইয়ের ‘যুবরাজ’ চলচ্চিত্রটিতে দর্শকরা ক্যাটরিনাকে ভালোভাবে নেন নি।
২০০৯ সালের ১ম চলচ্চিত্রেই আবার আলোড়ন তোলেন। জন আব্রাহামের বিপরীতে অভিনয় করা ‘নিউইয়র্ক’ চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়িক সফলতা লাভ করে। আবারও ফ্লপ, ২০০৯ সালে ক্যাটরিনা অভিনীত ‘ব্লু’ ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে সফলতা অর্জন করতে পারে নি। একই বছর ‘আজব প্রেম কি গজব কাহিনী’ চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়িকভাবে সফলতা অর্জন করে। ২০০৯ সালের শেষ চলচ্চিত্র ‘দে দনা ডন’ চলচ্চিত্রটিও ব্যবসায়িক সফলতা অর্জন করে।
২০১০ সালে আবারও বক্স অফিস হিট। রনবীর কাপুরের বিপরীতে ‘রাজনীতি’ চলচ্চিত্রটি ব্লকবাস্টার খেতাব অর্জন করে। এরপর অক্ষয় কুমারের সাথে ‘টিস মার খান’ ছবিটি তেমন সাফল্য না পেলেও ক্যাটরিনার ‘শীলা কি জাবানী’ গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। ২০১১ সালে ক্যাটরিনা অভিনীত ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। এই ছবিতে ক্যাটরিনার বিপরীতে অভিনয় করেন হৃতিক রোশন। সারাবিশ্বে ছবিটি ২৪ মিলিয়ন ইউএস ডলার আয় করে। এরপর ইমরান খানের বিপরীতে ‘মেরে ব্রাদার কি দুলহান’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।
২০১২ সালের ক্যাটরিনা নিয়ে আসে নাচের ঝড়। ‘অগ্নিপথ’ চলচ্চিত্রটিতে তার ‘চিকনি চামেলী’ গানটি সারা বিশ্বের তরুণ-তরুণীদের হৃদয় মন নাচিয়ে তোলে। ২০১২ সালে ক্যাটরিনা কাইফ অভিনীতি আরও একটি চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি হচ্ছে ‘এক থা টাইগার’। চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে ব্যাপক সফলতা পায়। ‘জাব তাক হ্যায় জান’ চলচ্চিত্রটিও ২০১২ সালে মুক্তি পায়। ২০১৩ সালে ক্যাটরিনা অভিনীত উল্লেখযোগ্য সফল ছবি হচ্ছে ‘ধুম-থ্রি’। চলচ্চিত্রটি বক্স অফিসে ব্যাপক সফলতা পায়। ২০১৪ সালে ক্যাটরিনা অভিনীত ‘ব্যাঙ ব্যাঙ’ চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়িকভাবে সফলতা অর্জন করে।
এশিয়ার সেরা আবেদনময়ীঃ
ইস্টার্ণ আই সাময়িকীর পাঠকদের ভোটে বিশ্বে সবচেয়ে আবেদনময়ী এশীয় নারী হিসেবে ২০০৮ থেকে ২০১০ পর্যন্ত পরপর তিন বছর চিহ্নিত হয়েছেন ক্যাটরিনা কাইফ। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যের একটি সাময়িকী এশিয়া অঞ্চলের নারীদের মধ্যে সবচেয়ে আবেদনময়ী নারী নির্বাচনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় এশিয়ার শ্রেষ্ঠ আবেদনময়ী নির্বাচিত হয়েছেন বলিউডের অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ। চতুর্থবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে আবেদনময়ী এশীয় নারী হিসেবে তাকে নির্বাচিত করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ‘ইস্টার্ন আই’।
প্রতিক্ষণ/এডি/এফটি




























