বাংলাদেশী প্রোকৌশলী তৈরি করলেন রোবট সাবমেরিন

প্রকাশঃ জানুয়ারি ১৭, ২০১৫ সময়ঃ ৪:৪৮ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৪:৪৮ অপরাহ্ণ

 

robotবাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের পুরো এলাকাই উপকূলীয় এলাকা। বঙ্গোপসাগর বেষ্টিত। কিন্তু এত নদী ও সাগর তলের অজানা রহস্য উন্মোচন, অনুসন্ধান ও গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাপক সংকট ও সক্ষমতার অভাব রয়েছে।সমুদ্রের তলদেশের সম্পদের খোঁজ পেতে যেসব অভিযান পরিচালনা করা হয় তার প্রায় সবই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে। কিন্তু দেশে ক্রমবর্ধমান শিল্পকারখানা, বিজ্ঞান প্রযুক্তির উন্নয়নে জ্বালানি অনুসন্ধানসহ বিভিন্ন অনুসন্ধান কাজে সমুদ্রের গভীরে অনুসন্ধানে দক্ষতা ও নিজস্ব প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি খুবই জরুরি।

আর সেই দক্ষতা ও প্রযুক্তির সংকট মোকাবেলায় আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এআইইউবি)চার তরুণের একদল প্রকৌশলী এগিয়ে এসেছে। ইতোমধ্যে তারা রোবট সাবমেরিন তৈরিতে বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে। এ ধরণের রোবট সাবমেরিন তৈরি করতে যে অর্থের যোগান দিতে তা অকল্পনীয়। ন্যূনতম রোবটটির দামই শুরু হয় ৭ হাজার ডলার দিয়ে।

সে কারণেই তারা ধরে নিয়েছিলেন বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে এ জিনিস তৈরি সম্ভব নয়। তবে তারা হাল ছেড়ে দেননি। বাংলাদেশের মত দেশে এ ধরনের রোবট সাবমেরিন তৈরির কল্পনা করে বসেন তরুণ প্রকৌশলী আবু ফাত্তাহ। সম্প্রতি দেশে সমুদ্র এবং নদীতে যে হারে দুর্ঘনার ঘটছে তাতে আবু ফাত্তাহ বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

উদ্ধার অভিযানে ভাল কোনো প্রযুক্তি থাকলে উদ্ধার অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব বলে ফাত্তাহর বিশ্বাস। আর সেই বিশ্বাস থেকেই রোবট সাবমেরিন তৈরির চিন্তা শুরু। তবে কি করে কম পয়সা খরচ করে অল্প দামের রোবট সাবমেরিন বানানো যায় তাই চিন্তা করছিলেন আবু ফাত্তাহ। অবশেষে আবু ফাত্তাহ এবং তার সহযোগী তিন বন্ধু মিলেই তৈরি করে ফেললেন কম দামের রোবট সাবমেরিন।

ড. কামরুল হাসানের নেতৃত্বে তারা কাজ শুরু করেন। অপর তিন বন্ধু হলেন প্রসুন বিশ্বাস, সজিব দাস এবং মিরাজ মুস্তাকিম। প্রথমেই এধরনের রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকল এর বডি স্ট্রাকচার বা উপরি কাঠামো তৈরিতে কি ধরনের বড় সমস্যা রয়েছে সেসব সমস্যার সমাধান করা ছিল তাদেল প্রধান লক্ষ্য।

robot-2

উপরি কাঠামো তৈরির সমস্যাগুলো তারা খুব দ্রুত সমাধান করেন। এরপর তাদের কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল কমপক্ষে ৫ মিটার পানির নিচে পানির চাপ প্রতিরোধ করে টিকে থাকা এবং সচল থাকার কাঠামোগত শক্তি নিশ্চিত করা।

এরপর তাও সমাধান করলেন তারা। সেইসাথে ওয়াটার প্রুফ মোটর তৈরি। তবে এটি তাদেরকে বিদেশ থেকে সংগ্রহ করতে হয়েছিল। এরপর তারা নজর দেন এর পুরো ফাংশনাল এবং নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া নিয়ে।

এতে তারা মাইক্রো কন্ট্রোলিং সিস্টেম ব্যবহার করেছেন। যাতে খুব দ্রুত এবং সহজেই এর কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। এছাড়া মাইক্রো কন্ট্রোলিং সিস্টেমের অন্য সু্বিধা হল, তাতে জ্বালানির খরচও খুব কম হয়।

সবশেষে তারা মাত্র ৪০ হাজার টাকায় তৈরি করলেন রোবট সাবমেরিন। তারা যে ধরনের সাবমেরিন তৈরি করেছেন ঠিক একইরকম রোবট সাবমেরিন পশ্চিমা দুনিয়ায় তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় ২ হাজার ডলার।

তবে এখন তাদেরকে এই রোবট সাবমেরিনের আপডেট প্রযুক্তিগত সংস্কার করা জরুরি। তাতে করে সমুদ্রে যকোনো কিছু শনাক্ত করা, অনুসন্ধান করে বের করতে এই রোবট সাবমেরিন খুবই কাজে দেবে।

প্রতিক্ষণ/এডি/মাসুদ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

September 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G