বিমানবন্দরের ঘটনায় আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড

প্রকাশঃ অক্টোবর ৩, ২০২৬ সময়ঃ ৩:২৬ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৩:২৬ অপরাহ্ণ

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শনিবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী।

বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলির সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়।

এরপর শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ডিওএইচএসের বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার এসআই মাজেদুল ইসলাম আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে বলা হয়, বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তাসংবেদনশীল স্থানে সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনে বাধা, হুমকি এবং আঘাতের ঘটনায় স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি ব্যাহত হয়েছে।

পুলিশ আরও দাবি করে, এ ঘটনায় বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। বিমানবন্দরের ভেতরে এমন পরিস্থিতি তৈরির পেছনে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইন্ধন ছিল কি না, সেটিও তদন্তের স্বার্থে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এসব বিষয় জানতে আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার বলে রিমান্ড আবেদন করা হয়।

আদালতে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ রিমান্ডের বিরোধিতা করে তাঁর জামিনের আবেদন করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে সৌদি আরবের মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইট ঢাকায় আসে। যাত্রীরা বিমান থেকে নেমে ৮ নম্বর লাগেজ বেল্টে যাওয়ার পর সেখানে পর্যাপ্ত ট্রলি না থাকায় লাগেজ সংগ্রহে দেরি হয়। এতে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।

পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার সময় আখতারুজ্জামান তাঁর দিকে এগিয়ে গিয়ে উত্তেজিত আচরণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় তিনি নির্বাহী পরিচালককে মারধরের হুমকি এবং বিমানবন্দর থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

আখতারুজ্জামানের মুক্তি চেয়ে জামায়াতের বিবৃতি

এদিকে আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার তাঁর মুক্তি দাবি করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১ অক্টোবর ওমরা পালন শেষে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে অন্য যাত্রীদের মতো আখতারুজ্জামানও বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তি ও হয়রানির মুখে পড়েছিলেন। এর প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

রাজনৈতিক পরিচয়

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা দুইবার সংসদ সদস্য হন। পরবর্তী সময়ে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ও তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনা ঘটে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে জয় পাননি।

এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ১৩ ডিসেম্বর তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G