ব্যাবিলনীয় সভ্যতা

প্রকাশঃ জুন ১০, ২০১৫ সময়ঃ ৮:১১ পূর্বাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ

প্রতিক্ষণ ডেস্ক

babilon sovvotaপ্রাচীন কালে মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে যে সকল সভ্যতা গড়ে ওঠেছিল সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হল ব্যাবিলনীয় সভ্যতা। খ্রিস্টপূর্ব ২৪০০ অব্দে সুমের আক্কাদ বা প্রাচীন ব্যাবিলন সাম্রাজ্য স্থাপিত হয়।

এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন প্রথম সারগন। রাজা হাম্বুরাবী ছিলেন সভ্যতার শ্রেষ্ঠ শাসক। হাম্মুরাবী দুর্ধর্ষ যোদ্ধা, সংগঠক, প্রশাসক ও আইন সংকলক ছিলেন। তিনি বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত নগর রাষ্ট্রকে একত্রিত করেন।

প্রায় ৪২ বছর (১৭৯২-১৮৫০ খ্রি:পূর্বাব্দ) ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে তিনি সমগ্র মেসোপটেমিয়া ভূমধ্যসসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ও এশিয়ার উপর কর্তৃত্ব করে ‘সর্বাধিপতি’ উপাধি ধারণ করেন। তাঁর রাজত্বকালে শুধু বিজয়ই নয় বরং শক্তিশালী কেন্দ্রিয় শাসন, আইনসহ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য ব্যাবিলনের ইতিহাসে ‘স্বর্ণযুগ’ হিসেবে পরিচিত। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে তিনি অসাধারণ মেধার পরিচয় দেন।

প্রাচীন ব্যাবিলনে ‘কিউনিফর্ম’ অর্থাৎ কীলক আকারের লিখন পদ্ধতি প্রচলিত ছিল। এই পদ্ধতি প্রাচীন মিশরের ‘চিত্রলিখন’ পদ্ধতি অপেক্ষা উন্নত ছিল। ব্যাবিলনীয় ভাষা ছিল ৩০০ ধ্বনি চিহ্ন বিশিষ্ট।

ব্যাবিলনীয়রা অসংখ্য দেব-দেবীর পূজা করত। সূর্যদেব মারদুক ছিল তাদের শ্রেষ্ঠ দেবতা। ব্যাবিলনের বিখ্যাত ‘শূণ্য উদ্যান’ পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম। শিল্প ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ব্যাবিলনীয়রা উন্নত ছিল।

কাঁচ শিল্পের উন্নতি সাধন ও প্রসারে তাদের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। চিত্রাঙ্কন বিদ্যা, জ্যোতিষ শাস্ত্র, অঙ্ক শাস্ত্র এবং আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে তাদের অতুলনীয় পারদর্শিতা ছিল। গ্রহ-নক্ষত্রাদি সম্পর্কে তাদের জ্ঞানের সীমা বহুদূর পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছিল।

সূর্য ও জলঘড়ির সাহায্যে তারা সময় নিরূপণ করত। চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ সম্পর্কেও তাদের ধারণা ছিল যথাযথ। সেই সুদুর প্রাচীনকালে দশমিক সংখ্যা পদ্ধতির গণনা ব্যাবিলন থেকেই প্রসার লাভ করে।

প্রতিক্ষণ/এডি/নির্ঝর

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

June 2026
SSMTWTF
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930 
20G