ভারত সীমান্তে চীনের তৈরি ২৫০ হাউইটজার মোতায়েন করেছে পাকিস্তান

প্রকাশঃ আগস্ট ৩, ২০২৬ সময়ঃ ৯:৫৯ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:৫৯ অপরাহ্ণ

ভারতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় চীনের তৈরি ২৫০টি এসএইচ-১৫ ট্রাকচালিত হাউইটজার মোতায়েন করেছে পাকিস্তান বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পাকিস্তান তাদের আর্টিলারি সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য শক্তি যোগ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত ভারতের পূর্ব সীমান্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে ধাপে ধাপে ১৫৫ মিলিমিটার ক্যালিবারের এসএইচ-১৫ আর্টিলারি ব্যবস্থা মোতায়েন করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এটিকে পাকিস্তানের অন্যতম বড় আর্টিলারি আধুনিকায়ন উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতীয় সূত্রের দাবি, ২০২৫ সালের মে মাসে পরিচালিত ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই অস্ত্র মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই অভিযানে ভারত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসএইচ-১৫ হাউইটজার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান নরিনকো নির্মিত। এটি চীনা সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত পিসিএল-১৮১ স্বচালিত হাউইটজারের রপ্তানিযোগ্য সংস্করণ। সাঁজোয়া ট্রাক চেসিসে স্থাপিত হওয়ায় এটি দ্রুত মোতায়েন এবং অবস্থান পরিবর্তনে সক্ষম। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৯০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারা এই আর্টিলারি ব্যবস্থা দুর্গম এলাকাতেও দ্রুত স্থানান্তর করা যায়।

১৫৫ মিলিমিটার ও ৫২-ক্যালিবারের এই কামান থেকে ছোড়া সাধারণ গোলার কার্যকর পাল্লা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার। আর রকেট সহায়ক ভি-ল্যাপ গোলা ব্যবহার করলে ৫৩ থেকে ৭২ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এতে স্বয়ংক্রিয় ফায়ার কন্ট্রোল ব্যবস্থা এবং হাইড্রোলিক স্ট্যাবিলাইজার রয়েছে। এর ফলে খুব অল্প সময়ে যুদ্ধের অবস্থান গ্রহণ করে প্রতি মিনিটে সর্বোচ্চ ছয়টি গোলা নিক্ষেপ করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে পাল্টা হামলার আগেই দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনের সুবিধাও রয়েছে।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্রের ভাষ্য, ২৫০টি এসএইচ-১৫ একাধিক আর্টিলারি রেজিমেন্টকে সজ্জিত করার জন্য যথেষ্ট। এতে পাকিস্তানের দীর্ঘপাল্লার প্রচলিত গোলাবর্ষণ সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে তারা মনে করছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, এই অস্ত্র সরবরাহ বেইজিং ও ইসলামাবাদের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আরেকটি উদাহরণ। গত এক দশকে দুই দেশের মধ্যে অস্ত্র সরবরাহের পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়ার সংখ্যাও বেড়েছে।

এদিকে, শনিবার রাওয়ালপিন্ডির জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির ৯৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করে পাকিস্তান।

সেখানে পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বলেন, পাকিস্তান ও চীনের সম্পর্ক সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অনুষ্ঠানে পাকিস্তরে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত জিয়াং জাইদং, চীনের প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে মেজর জেনারেল ওয়াং ঝং, চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তাসহ পাকিস্তানের তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G