মদিনায় মিলল ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান
সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ খনিজ কাঁচামালের সন্ধান পাওয়া গেছে। দেশটির দাবি, ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও খনিজ অনুসন্ধানের মাধ্যমে ওই এলাকায় প্রায় ১১০ মিলিয়ন টন বা ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাধারণ সম্মেলনে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সালমান এ তথ্য জানান। পরে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে বিষয়টি প্রকাশ করে আল আরাবিয়া।
জ্বালানিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মদিনা অঞ্চলের জাবাল সাইদ প্রকল্পে পরিচালিত ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও খনিজ অনুসন্ধানের সময় ইউরেনিয়ামের পাশাপাশি ভারী দুর্লভ খনিজ উপাদানেরও উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
সৌদি আরবের জন্য এই অনুসন্ধানকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ দেশটি সাম্প্রতিক সময়ে তেলনির্ভর অর্থনীতির পাশাপাশি খনিজ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রিন্স আব্দুলআজিজ বলেন, জাবাল সাইদ এলাকায় পাওয়া সম্পদের কারণে প্রকল্পটি বিশ্বজুড়ে উন্নয়নাধীন গুরুত্বপূর্ণ দুর্লভ খনিজ সম্পদভিত্তিক স্থানগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে সৌদি আরবের খনিজ খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও আরও বাড়তে পারে।
খনিজ ও জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি সরকার। নতুন এই অনুসন্ধানের ফলাফল সেই প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত জুলাইয়ে শিল্প ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বও নেন প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সালমান। তিনি বলেন, আরব বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ সৌদি আরব তার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের বৈচিত্র্য বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়ানো নয়, বরং বিদেশি বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতাও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে এখানে ১১০ মিলিয়ন টন পরিমাণটি ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিক বা খনিজ কাঁচামালের, বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের নয়। আকরিকের মোট ওজন এবং তার মধ্যে থাকা প্রকৃত ইউরেনিয়ামের পরিমাণ এক বিষয় নয়। তাই আবিষ্কারের পরিমাণকে সরাসরি ১১ কোটি টন ইউরেনিয়াম হিসেবে উল্লেখ করা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
সৌদি আরবের খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় জাবাল সাইদের এই আবিষ্কার তাই গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এসব সম্পদের বাণিজ্যিক ব্যবহার ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশটির খনিজ খাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।
প্রতি / এডি / শাআ



















