মিষ্টি নয় শীতের মিষ্টি রোদ
প্রতিক্ষণ ডেস্ক
শীতের সকালে গায়ে একটু মিষ্টি রোদ খেয়ে ওম পেতে চান না এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না । শুধু সকালেই নয়, শীতের সময় দুপুর কিংবা বিকালেও অনেকে গায়ে রোদ লাগাতে পছন্দ করেন বা গায়ে রোদ মেখে আরাম পান । তাই শীতের সময় কেউ রোদ এড়িয়ে চলতে চায় না । এ সময় অনেকেই দেখা যায় রিকশায় হুড না তুলে পথ চলছেন । রাস্তায় রোদের মধ্যে পথচারীদেরও চলতে দ্বিধা থাকে না । শীতের সকালে চায়ের পেয়ালা হাতে অনেকেই বারান্দায় বসে থাকেন একটু উষ্ণতার জন্য । শীতের এসব দৃশ্যের পেছনে কারণ একটাই, আর তা হচ্ছে শীতের মিষ্টি রোদ থেকে উষ্ণতা আরোহণের আকাঙ্ক্ষা ।
কিন্তু শীতের এই মিষ্টি রোদ আসলে মিষ্টি নয়, বরং ক্ষতিকর বলা যায় । এমনিতেই রোদ ত্বকের অন্যতম শত্রু । রোদ ত্বককে পুড়িয়ে দেয় । বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে শীতের সময় রোদের ক্ষতিকর প্রভাব বেশি থাকে । যদিও শীতের সময় রোদের প্রখরতা কম থাকে, কিন্তু বায়ুমন্ডলে ক্ষতিকর আলট্রাভায়োলেট রশ্মির পরিমান তখন বেশি থাকে ।
শীতের সময় বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকার কারণেই আলট্রাভায়োলেট রশ্মি তুলনামূলক কম জলীয়বাষ্পের বাধা অতিক্রম করে ত্বকের সংস্পর্শে পৌছে । বছরের অন্যান্য সময় বাতাসের জলীয়বাষ্পের পরিমান বেশি থাকার কারণে আলট্রাভায়োলেট রশ্মি জলীয়বাষ্পের বাধা অতিক্রম করে আসার ফলে এর তেজ অনেকটা কমে যায় ।
আর শীতে আলট্রাভায়োলেট রশ্মি অনেকটা সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে আসে । তাই শীতের রোদে ত্বকের ক্ষতিও বেশি হয় । ত্বক মলিন ও গাড় হয়ে যায় । কাজেই শীতের সময় রোদের মধ্যে বেশি থাকা জন্য ত্বকের ক্ষতি আরও বেশি হয় ।
অন্য দিকে গরমকালে রোদের প্রখরতা বেশি থাকে বলে লোকজন এমনিতেই রোদ এরিয়ে চলে এবং তখন রোদের আলট্রাভায়োলেট রশ্মির তেজও থাকে কম । ফলে গরমকালে রোদে ঘুরলে ত্বক শীতের সময়ের চেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্থ হয় । আলট্রাভায়োলেট রশ্মি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর । এই রশ্মি থেকে ত্বককে যত দূরে রাখা যাবে, ততই মঙ্গল । ত্বকের সজীবতা ও হালকা বর্ণ ধরে রাখার জন্য শীতের সময় রোদ এরিয়ে চলায় ভাল । শীতের রোদকে যতই আরামের মনে হোক না কেন, তা আসলেই ত্বকের ক্ষতি করছে ।
প্রতিকার
শীতের সময় মিষ্টি রোদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে হলে যতটা সম্ভব রোদ এড়িয়ে চলতে হবে । ঘরের বাইরে বের হবার আগে শরীরের উন্মুক্ত অংশে সানস্ক্রিন ক্রিম বা লোশন মেখে নিতে হবে । কিন্তু যে সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করবেন সেটির ক্ষমতা যেন অন্তত এসপিএফ ৩০ হয় । এসপিএফ মানে সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর । যে সানস্ক্রিনের এসপিএফ যত বেশি সে সানস্ক্রিনের রোদের বিরুদ্ধে কাজ করার ক্ষমতা তত বেশি । আমাদের দেশের জন্য এসপিএফ ৩০ হলেই যথেষ্ট । আর বাড়তি প্রতিরক্ষা হিসেবে চোখে সানগ্লাস পরা যেতে পারে । এই সানগ্লাস চোখের চারদিকের নাজুক ত্বককে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে ।
প্রতিক্ষণ/এডি/এনজে
























