সারাক্ষণ স্ক্রিনে চোখ? চোখের সুরক্ষায় যেসব বিষয় জানা জরুরি

প্রকাশঃ আগস্ট ৩১, ২০২৬ সময়ঃ ১০:১০ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:১০ অপরাহ্ণ

মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটারের পর্দার দিকে দিনের বড় একটি সময় তাকিয়ে কাটে অনেকের। এ কারণে চোখের ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। বিশেষ করে পর্দা থেকে আসা নীল আলো চোখের জন্য ক্ষতিকর, এমন নানা সতর্কবার্তা প্রায়ই শোনা যায়।

তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া বৈজ্ঞানিক গবেষণাগুলো বলছে, নীল আলো নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো চোখের স্থায়ী ক্ষতি করে কিংবা ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ায়, এমন শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

এর অর্থ অবশ্য দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারে চোখের কোনো সমস্যা হয় না, এমন নয়। টানা কয়েক ঘণ্টা পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখ শুকিয়ে যাওয়া, জ্বালাপোড়া, চোখ ভারী লাগা, ক্লান্তি কিংবা সাময়িক ঝাপসা দেখার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এর অন্যতম কারণ হলো স্ক্রিন ব্যবহারের সময় স্বাভাবিকের তুলনায় পলকের সংখ্যা কমে যাওয়া। এতে চোখের ওপরিভাগের আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। একই সঙ্গে কাছের কোনো বস্তুর দিকে দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের ফোকাস নিয়ন্ত্রণকারী পেশিগুলোর ওপরও চাপ পড়ে।

নীল আলো কি একেবারেই ক্ষতিকর নয়?

চোখের স্থায়ী ক্ষতির ক্ষেত্রে স্ক্রিনের নীল আলোকে বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তবে ঘুমের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণ রয়েছে।

বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করলে নীল আলো শরীরে মেলাটোনিন নিঃসরণে প্রভাব ফেলতে পারে। মেলাটোনিন ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে ঘুমাতে দেরি হওয়া বা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

নীল আলো আটকানো চশমা কতটা উপকারী?

নীল আলো প্রতিরোধী চশমা ব্যবহার করলে চোখের ক্লান্তি বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে, এমন শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব অপথ্যালমোলজিও চোখ সুরক্ষিত রাখার জন্য এ ধরনের চশমাকে অপরিহার্য বলে মনে করে না।

তাই কেউ এসব চশমা ব্যবহার করে স্বস্তি পেলে ব্যবহার করতে পারেন। তবে এটিকে চোখের রোগ প্রতিরোধের বিশেষ উপায় বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

স্ক্রিন দেখলে চোখে অস্বস্তি হওয়ার কারণ কী?

দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে যে চোখের অস্বস্তি তৈরি হয়, তাকে সাধারণভাবে ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেন’ বলা হয়। এর পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে।

টানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, কম পলক ফেলা, চোখের ফোকাস ধরে রাখতে অতিরিক্ত চাপ, অতিরিক্ত উজ্জ্বল পর্দা, ঘরে পর্যাপ্ত আলো না থাকা, চোখ থেকে স্ক্রিনের ভুল দূরত্ব এবং ভুল পাওয়ারের চশমা ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো এ সমস্যা বাড়াতে পারে।

এর ফলে চোখ শুষ্ক বা ক্লান্ত লাগা, জ্বালাপোড়া, মাথাব্যথা এবং সাময়িক ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

চোখের চাপ কমাতে কী করবেন?

চোখের ওপর চাপ কমানোর সহজ একটি উপায় হলো ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলা। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য প্রায় ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকাতে হবে।

এর পাশাপাশি স্ক্রিন ব্যবহারের সময় সচেতনভাবে বেশি পলক ফেলা, কাজের জায়গায় পর্যাপ্ত আলো রাখা এবং স্ক্রিনটি চোখের সমতলের কিছুটা নিচে রাখা উপকারী। দৃষ্টিশক্তির সমস্যা থাকলে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করা উচিত।

রাতে ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে না থাকাই ভালো। প্রয়োজন হলে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতাও কমিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, স্ক্রিনের নীল আলো নিয়ে অযথা ভয় পাওয়ার চেয়ে স্ক্রিন ব্যবহারের সময়, দূরত্ব এবং অভ্যাসের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। বর্তমান বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় একটানা স্ক্রিন ব্যবহারের কারণেই চোখে অস্বস্তি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, নীল আলো এক্ষেত্রে প্রধান কারণ নয়।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G