সস্তা পেয়ারা নাকি দামি আপেল, স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি বেশি উপকারী?
আপেল ও পেয়ারা, দুটি ফলই আমাদের পরিচিত এবং সহজলভ্য। সারা বছরই কমবেশি বাজারে পাওয়া যায় এগুলো। তবে দামের ক্ষেত্রে রয়েছে বেশ পার্থক্য। পেয়ারার তুলনায় আপেলের দাম অনেক বেশি হওয়ায় অনেকেই মনে করেন, পুষ্টিগুণেও হয়তো আপেল অনেক এগিয়ে। কিন্তু সত্যিই কি দামি আপেল সস্তা পেয়ারার চেয়ে বেশি উপকারী?
পুষ্টির দিক থেকে দুটি ফলেরই রয়েছে আলাদা শক্তি। তাই শুধু একটি ফলকে অন্যটির চেয়ে সব দিক থেকে সেরা বলা সহজ নয়। কোন ফল শরীরের জন্য বেশি উপযোগী হবে, তা নির্ভর করতে পারে ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক প্রয়োজনের ওপর।
ভিটামিন সিতে এগিয়ে পেয়ারা
পেয়ারার অন্যতম বড় পুষ্টিগুণ হলো এতে থাকা প্রচুর ভিটামিন সি। আপেলের তুলনায় পেয়ারায় ভিটামিন সি অনেক বেশি পাওয়া যায়। রোগ প্রতিরোধক্ষমতার স্বাভাবিক কার্যক্রম, ত্বক ও শরীরের বিভিন্ন কাজে এই ভিটামিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রোটিনের পরিমাণেও দুই ফলে পার্থক্য রয়েছে। মাঝারি আকারের একটি আপেলে প্রোটিন সাধারণত ১ গ্রামের কম থাকে। একই আকারের একটি পেয়ারায় প্রায় ২ দশমিক ৬ গ্রাম প্রোটিন থাকতে পারে। তবে ফলের আকার ও জাতভেদে এই পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।
পেয়ারায় ভিটামিন সি ছাড়াও খাদ্যআঁশ এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ শরীরের প্রয়োজনীয় আরও কিছু পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।
আপেলের পুষ্টিগুণও কম নয়
আপেলেও রয়েছে খাদ্যআঁশ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, পটাশিয়াম ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। সুষম খাদ্যতালিকায় ফল হিসেবে আপেল একটি ভালো সংযোজন হতে পারে।
আপেলের খাদ্যআঁশ হজমের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়ক হতে পারে। বিভিন্ন ফল ও সবজি নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। তবে কোনো একটি ফল একাই হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা হাঁপানির মতো রোগের চিকিৎসা করতে পারে, এমন ধারণা ঠিক নয়।
তাহলে কোনটি খাবেন?
পেয়ারা ও আপেল, দুটিই পুষ্টিকর ফল। ভিটামিন সির পরিমাণের কথা বিবেচনা করলে পেয়ারা এগিয়ে। অন্যদিকে আপেলও খাদ্যআঁশ ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ভালো উৎস।
তাই দামের ভিত্তিতে ফলের পুষ্টিগুণ বিচার করা ঠিক নয়। কম দামের পেয়ারা যেমন স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হতে পারে, তেমনি আপেলও পুষ্টিকর। সম্ভব হলে খাদ্যতালিকায় এক ধরনের ফলের পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফল রাখা ভালো।
কখন ফল খাবেন?
ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। খালি পেটে ফল খাওয়া সাধারণত সবার জন্য ক্ষতিকর, এমন শক্ত প্রমাণ নেই। তবে কারও যদি খালি পেটে ফল খেলে অস্বস্তি বা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত সমস্যা থাকে, তাহলে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী খাবারের সময় নির্ধারণ করা উচিত।
ডায়াবেটিস, বিশেষ করে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকলে ফলের ধরন, পরিমাণ ও সময় ব্যক্তিভেদে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ফল খাওয়া সবচেয়ে ভালো।
সব মিলিয়ে, সস্তা বলে পেয়ারা পুষ্টিতে পিছিয়ে নেই। বরং ভিটামিন সিসহ বেশ কিছু পুষ্টি উপাদানে এটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। আবার আপেলেরও রয়েছে নিজস্ব পুষ্টিগুণ। তাই সস্তা পেয়ারা নাকি দামি আপেল, কোনটি বেশি উপকারী, তার একক উত্তর নেই। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে দুই ফলই খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
প্রতি / এডি / শাআ



















