পাকিস্তানে তুরস্কের সামরিক বিমানের আনাগোনা, উদ্বিগ্ন ভারত

প্রকাশঃ আগস্ট ২৯, ২০২৬ সময়ঃ ১০:২১ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:২১ অপরাহ্ণ

পাকিস্তানের বিভিন্ন সামরিক বিমানঘাঁটিতে সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্কের সামরিক পরিবহন বিমানের আনাগোনা বেড়েছে। মাত্র তিন দিনে একাধিক তুর্কি বিমান পাকিস্তানের বিভিন্ন ঘাঁটিতে যাতায়াত করায় বিষয়টি নিয়ে নজরদারি বাড়িয়েছে ভারত। দেশটির প্রতিরক্ষা মহলের একাংশের আশঙ্কা, এই তৎপরতার পেছনে পাকিস্তানের সামরিক প্রস্তুতির কোনো বিষয় থাকতে পারে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ১৯ থেকে ২১ আগস্টের মধ্যে পাকিস্তানের নূর খান, মাসরুর ও মুরিদ বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের সি-১৩০ হারকিউলিস এবং এ৪০০এম মডেলের সামরিক পরিবহন বিমান দেখা গেছে। এসব উড্ডয়নের মধ্যে ‘টিইউএএফ৫২৬’ কলসাইন ব্যবহারকারী একটি বিমানও ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে তুরস্ক কিংবা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এসব বিমানে কী ধরনের মালামাল বা সরঞ্জাম পরিবহন করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিমানগুলোর এই যাতায়াতের উদ্দেশ্য নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তানের জন্য সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে এসব বিমান ব্যবহার হয়ে থাকতে পারে। সম্ভাব্য সরঞ্জামের তালিকায় ড্রোন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

এ ছাড়া তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান বায়কারের তৈরি নতুন প্রজন্মের কামিকাজে ড্রোন কে-২ এবং আসিসগার্ডের ড্রোন ব্যবস্থাও পাকিস্তানে পাঠানো হয়ে থাকতে পারে বলে ভারতীয় মহলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত তুরস্ক বা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিরক্ষা চুক্তির পর তৎপরতা

তুরস্কের সামরিক বিমানের পাকিস্তানমুখী এই তৎপরতাকে গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন বিশ্লেষকদের অনেকে।

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিন দেশের কোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এমন একটি চুক্তির পর পাকিস্তানে তুরস্কের সামরিক বিমানের ঘনঘন যাতায়াত হওয়ায় বিষয়টি ভারতের কাছে বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহলে প্রশ্ন উঠেছে, পাকিস্তান কি সম্ভাব্য কোনো নতুন সামরিক উত্তেজনা বা সংঘাতের কথা মাথায় রেখে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে?

আগেও সামরিক সহায়তার অভিযোগ ভারতের

এর আগে গত বছরের মে মাসে ‘অপারেশন সিন্দুর’ ঘিরে সংঘাতের সময়ও পাকিস্তানকে চীন ও তুরস্কের সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল ভারত।

ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, পাকিস্তান চীনের কাছ থেকে পিএল-১৫ আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেয়েছিল। পাশাপাশি তুরস্কের তৈরি বায়রাকতার ড্রোন এবং আসিসগার্ডের সংহারক ড্রোন ব্যবহারের কথাও ভারতীয় পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল।

শুধু অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম নয়, ওই সংঘাতের সময় চীন ও তুরস্ক পাকিস্তানকে যুদ্ধক্ষেত্রের তাৎক্ষণিক তথ্য এবং কৌশলগত সহায়তা দিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছিল ভারত।

তবে সাম্প্রতিক তুর্কি সামরিক বিমানের যাতায়াতের প্রকৃত উদ্দেশ্য বা এসব বিমানে কী ধরনের সরঞ্জাম পরিবহন করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

20G