ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি পূরণে খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ৩ ভেষজ পাতা
শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ম্যাগনেশিয়াম অপরিহার্য একটি খনিজ। এটি স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা বজায় রাখা, পেশির স্বাভাবিক কাজ, ভালো ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শরীরে এই খনিজের ঘাটতি হলে ক্লান্তি, অনিদ্রা, ক্ষুধামন্দা ও উদ্বেগের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
দৈনন্দিন খাবারে কয়েকটি পরিচিত ভেষজ পাতা যোগ করেই ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা পূরণে কিছুটা সহায়তা পাওয়া সম্ভব। জেনে নিন এমন তিনটি ভেষজ সম্পর্কে।
ধনেপাতা
রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে বহুল ব্যবহৃত ধনেপাতা ম্যাগনেশিয়ামের ভালো উৎস। এতে ভিটামিন কে, ভিটামিন সি ও আয়রনের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ম্যাগনেশিয়ামও রয়েছে। বিশেষ করে শুকনো ধনেপাতার গুঁড়োয় এই খনিজের পরিমাণ বেশি থাকে।
- প্রতি ১০০ গ্রাম শুকনো ধনেপাতায় প্রায় ৬৯৪ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে।
- ১ টেবিল চামচ শুকনো ধনেপাতার গুঁড়োয় পাওয়া যায় প্রায় ৪.১৬ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম।
তুলসী পাতা
তুলসী বা বেসিল শুধু সুগন্ধি ভেষজই নয়, এটি বিভিন্ন পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। পাস্তা, সালাদ কিংবা বিভিন্ন খাবারে ব্যবহৃত এই পাতায় রয়েছে ম্যাগনেশিয়ামের পাশাপাশি ভিটামিন এ, ভিটামিন কে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
- ১/৪ কাপ শুকনো তুলসীর গুঁড়োয় প্রায় ৩.৮৪ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়।
পুদিনাপাতা
পুদিনাপাতা শরবত, চাটনি ও নানা ধরনের খাবারে ব্যবহৃত হয়। এটি ম্যাগনেশিয়ামের পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, কপারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজেরও উৎস।
- প্রতি ১০০ গ্রাম পুদিনাপাতায় প্রায় ৬৩ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম থাকে।
পুদিনা পাতা দিয়ে তৈরি চা হজমে সহায়তা করতে পারে এবং বমিভাব কমাতেও উপকারী হিসেবে পরিচিত। এছাড়া এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে সুরক্ষা দিতেও ভূমিকা রাখে।
মনে রাখবেন
শুধু ভেষজ পাতার ওপর নির্ভর করে ম্যাগনেশিয়ামের দৈনিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে বাদাম, বিভিন্ন বীজ, শাকসবজি, ডাল, পূর্ণ শস্য এবং মাছও নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। কোনো খনিজের ঘাটতির লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
প্রতি / এডি / শাআ



















