রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে: সুচি

প্রকাশঃ অক্টোবর ১৩, ২০১৭ সময়ঃ ১২:৫৪ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১:৪৩ অপরাহ্ণ
ফাইল ছবি

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি বলেছেন, ‘রাখাইন থেকে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’

১২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া সু চির এ ভাষণ রাষ্ট্রীয় টিভিতে সম্প্রচারিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘রাখাইন ইস্যুতে বিশ্বের ব্যাপক মনোযোগ ছিল। গত বছরের অক্টোবরে পুলিশ ফাঁড়িতে সন্ত্রাসী হামলার মধ্য দিয়ে এ ইস্যুর শুরু হয়। চলতি বছরের আগস্টে আবারও একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। আর এই হামলার পর থেকে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।’

সুচি বলেন, ‘মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অনেক সমালোচনা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মতামতকে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। যদিও কারো পক্ষেই আমাদের দেশের পরিস্থিতি বুঝতে পারা সম্ভব নয়। আমাদের দেশের শান্তি ও উন্নয়ন আমাদের চেয়ে কেউ বেশি চাইতে পারে না। তাই এসব সমস্যা আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে।’

সমালোচনা ও অভিযোগের জবাব কাজে দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উন্নতি ও সফলতা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা বাস্তবায়ন করে যাব। সমালোচনা ও অভিযোগের জবাব কথায় না দিয়ে আমাদের পদক্ষেপ ও কাজ দিয়ে বিশ্বকে দেখিয়ে দেব।’

সু চি বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে আমাদের অনেক কিছুই করতে হবে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আমাদের তিনটি প্রধান করণীয় রয়েছে। প্রথমত, বাংলাদেশে যারা চলে গেছে তাদের প্রত্যাবাসন ও কার্যকরভাবে মানবিক সহায়তা দেওয়া। দ্বিতীয়ত, পুনরায় স্থানান্তর ও পুনর্বাসন। তৃতীয়ত, অঞ্চলটির উন্নয়ন ও স্থিতিশীল শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে যারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে শুধু তারাই নয়, দাইং-নেত ও মিওর মতো ছোট জাতিগোষ্ঠীসহ রাখাইন জাতি ও হিন্দুরাও মিয়ানমারের পুনর্বাসন উদ্যোগের আওতায় থাকবে। তারা যাতে স্বাভাবিকত্ব ফিরে পায়। আর তা নিশ্চিতে আমাদের কাজ করতে হবে। তাদের জীবন উন্নত গড়তে আমাদের স্থিতিশীল, টেকসই কর্মসূচি হাতে নিতে হবে।’

রাখাইন অঞ্চলে স্থিতিশীল শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি প্রণয়নের কথা বলেছেন সু চি। তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আমাদের দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে এবং আগামী বছরগুলোয় সংঘাতময় এই অঞ্চলে স্থিতিশীল শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে হবে।’

সু চি বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যের উন্নয়নের জন্য, সব খাতে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য আমাদের এমন একটি পদ্ধতির প্রয়োজন, যা কেন্দ্রীয় সরকার, জনগণ, বেসরকারি খাত, স্থানীয় এনজিও, নাগরিক সমাজ, বন্ধুপ্রতিম দেশ, জাতিসংঘের সংস্থা, আইএনজিওগুলোকে সহযোগিতার মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ করে দেবে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী সপ্তাহেই সরকার কর্মসূচিটি শুরু করবে। আগামী রোববার (১৫ অক্টোবর) থেকে আমরা আমাদের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনাদের জানিয়ে দেব, কীভাবে আপনারা আমাদের সাহায্য করতে পারবেন, আমাদের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করবেন।’

মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর হিসেবে এই সম্মিলিত উদ্যোগে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন সু চি। এতে দেশের সব জনগণ, এনজিও, নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়িক নেতাদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন তিনি। সু চির ভাষণ ইংরেজিতে তরজমা প্রচার করেছে তার দফতরের ফেসবুক পেজ।

প্রতিক্ষণ/এডি/শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G