লম্বা নখ ও অদ্ভুত গড়ন, সন্ধান মিলল নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের
ডাইনোসরের জীবাশ্ম নিয়ে গবেষণা যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর বিচিত্র সব প্রাণীর তথ্য। এবার পশ্চিম চীনে পাওয়া একটি প্রায় সম্পূর্ণ জীবাশ্ম থেকে এমন এক ডাইনোসরের সন্ধান মিলেছে, যার শারীরিক গঠন আগে আবিষ্কৃত প্রজাতিগুলোর তুলনায় বেশ ব্যতিক্রমী।
গবেষকদের মতে, নতুন আবিষ্কৃত এই ডাইনোসরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল এর লম্বা নখ। পাশাপাশি এর শরীরের গঠনও ছিল অস্বাভাবিক। দেখতে অনেকটা লোমশ শূকরের মতো এই প্রাণীটির দাঁত ছিল আকারে ছোট। তবে দাঁতগুলো সারিবদ্ধভাবে বসানো ছিল।
এর সামনের পা বা হাতের প্রতিটিতে ছিল তিনটি করে আঙুল। এসব আঙুলের সঙ্গে যুক্ত ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক লম্বা নখ। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যই নতুন ডাইনোসরটিকে এতটা আলাদা করে তুলেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
জীবাশ্মটি প্রায় সম্পূর্ণ অবস্থায় উদ্ধার হওয়ায় প্রাণীটির শারীরিক গঠন সম্পর্কে বেশ পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। হাড়ের বিন্যাস ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে তাঁদের ধারণা, এর আগে আবিষ্কৃত কোনো ডাইনোসরের সঙ্গে এর গঠন পুরোপুরি মেলে না।
পশ্চিম চীন থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে এই জীবাশ্ম। গবেষণার পর নতুন প্রজাতিটির নাম দেওয়া হয়েছে কেরাসরাস চাঙ্গলিয়েনসিস। বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রায় সাড়ে ১২ কোটি বছর আগে ক্রিটেশিয়াস যুগে পৃথিবীতে বিচরণ করত এই ডাইনোসর।
আকারের দিক থেকেও এটি খুব ছোট কোনো প্রাণী ছিল না। উদ্ধার হওয়া জীবাশ্মের ভিত্তিতে গবেষকেরা অনুমান করছেন, ডাইনোসরটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১১ ফুট ৮ ইঞ্চি, অর্থাৎ প্রায় ১২ ফুট।
নতুন এই আবিষ্কার ডাইনোসরের বৈচিত্র্য সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে এর অস্বাভাবিক শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং দীর্ঘ নখ প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীদের বিবর্তন ও জীবনযাপন সম্পর্কে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
নতুন প্রজাতিটির সন্ধানের খবর প্রকাশের পর এটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও আলোচনায় এসেছে।
প্রতি / এডি / শাআ





















