হজম ভালো রাখতে আঁশ নাকি প্রোবায়োটিক, কোনটি বেশি উপকারী?

প্রকাশঃ আগস্ট ২, ২০২৬ সময়ঃ ৬:৪৩ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৬:৪৩ অপরাহ্ণ

সুস্থ পাকস্থলী ও পরিপাকতন্ত্রের জন্য আঁশ এবং প্রোবায়োটিক, দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে অন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য রক্ষায় কোনটির ভূমিকা বেশি, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। পুষ্টিবিদ ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টদের মতে, সুস্থ পরিপাকতন্ত্রের ভিত্তি গড়ে তুলতে আঁশই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রোবায়োটিক উপকারী হলেও এটি মূলত নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বেশি কার্যকর।

কেন আঁশ এত গুরুত্বপূর্ণ?

আঁশ বা ডায়েটারি ফাইবার হলো উদ্ভিজ্জ খাবারে থাকা এমন এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট, যা মানবদেহ সরাসরি হজম করতে পারে না। তবে এটি অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার প্রধান খাদ্য হিসেবে কাজ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আঁশ অন্ত্রে পৌঁছানোর পর উপকারী জীবাণু এটি ভেঙে শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করে। এই উপাদান অন্ত্রের সুরক্ষা প্রাচীরকে শক্তিশালী করে এবং ক্ষতিকর জীবাণুর আক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

এছাড়া পর্যাপ্ত আঁশ গ্রহণের ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও শক্তিশালী হতে পারে।

আঁশের দুই ধরন

দ্রবণীয় আঁশ (Soluble Fiber): পানিতে মিশে জেলির মতো পদার্থ তৈরি করে। এটি হজমের গতি কিছুটা ধীর করে, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং ডায়রিয়া কমাতে ভূমিকা রাখে।

অদ্রবণীয় আঁশ (Insoluble Fiber): এটি পানিতে গলে না। মলের পরিমাণ ও কোমলতা বাড়িয়ে অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়তা করে।

প্রোবায়োটিকের ভূমিকা কী?

প্রোবায়োটিক হলো উপকারী জীবিত অণুজীব, যা অন্ত্রে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম (IBS), আলসারেটিভ কোলাইটিস, তীব্র ডায়রিয়া কিংবা অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পর অন্ত্রের স্বাভাবিক জীবাণু পুনরুদ্ধারে প্রোবায়োটিক উপকারী হতে পারে।

তবে গবেষকদের ভাষ্য, আঁশের পর্যাপ্ত উপস্থিতি ছাড়া প্রোবায়োটিক দীর্ঘ সময় অন্ত্রে কার্যকর থাকতে পারে না। অর্থাৎ, সুস্থ অন্ত্রের পরিবেশ তৈরি করতে আগে আঁশসমৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োজন।

তাহলে কোনটি বেশি প্রয়োজন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন সুস্থ পরিপাকতন্ত্রের জন্য আঁশই প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। কারণ এর উপকারিতা প্রায় সব মানুষের ক্ষেত্রেই প্রমাণিত এবং দীর্ঘস্থায়ী।

অন্যদিকে প্রোবায়োটিকের কার্যকারিতা ব্যক্তি, স্বাস্থ্য সমস্যা, ব্যবহৃত ব্যাকটেরিয়ার ধরন এবং মাত্রার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া নিয়মিত প্রোবায়োটিক গ্রহণের পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

কী খাবেন?

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ফলমূল, শাকসবজি, ডাল, ওটস, বিভিন্ন ধরনের বাদাম এবং অন্যান্য আঁশসমৃদ্ধ খাবার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।

তবে হঠাৎ করে অতিরিক্ত আঁশ খাওয়া শুরু না করে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ানো উচিত। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করলে আঁশ আরও কার্যকরভাবে কাজ করে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

সুস্থ অন্ত্রের জন্য প্রথমে আঁশসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। এরপর যদি বিশেষ কোনো স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রোবায়োটিক গ্রহণ করুন।

সহজভাবে বলতে গেলে, পরিপাকতন্ত্র যদি একটি বাগান হয়, তবে আঁশ সেই বাগানের উর্বর মাটি আর প্রোবায়োটিক হলো বীজ। মাটি প্রস্তুত না থাকলে বীজও ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে না।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G