কন্ঠশিল্পী বাদল বিরোহীর গল্প

প্রকাশঃ জুন ১০, ২০১৫ সময়ঃ ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১:১০ অপরাহ্ণ

মুনওয়ার আলম নির্ঝর ও জহির উদ্দিন মিশু

badal 2
ছবি তুলেছেন: আবু সুফিয়ান জুয়েল

সঙ্গীত যার রক্তের সাথে মিশে আছে। সঙ্গীত ছাড়া যিনি বেঁচে থাকার কথা এক মূহুর্তও ভাবতে পারেন না। যার সূরের মূর্ছনা সবার মাঝে আবেগ ধরিয়ে দিতো।তিনি জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী সালাহউদ্দীন বাদল। বিরহের গান গেয়ে যিনি বন্ধুদের কাছে পরিচিত ‘বাদল বিরোহী’ বলে।

খুব ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি ছিল তার প্রবল আগ্রহ। শৈশব কেটেছে যমুনা নদীর তীরবর্তী জেলা টাঙ্গাইলে। বাবা প্রয়াত আলাউদ্দিন আহমেদ ছিলেন সরকারী কর্মকর্তা, মা সুফিয়া আহমেদ সুগৃহিনী এবং সঙ্গীতানুরাগী। বাবার চাকুরিতে বদলীর সুবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায় কেটেছে বাদলের শৈশব। বাবার কন্ঠে গান শুনে শুনেই সুরের প্রতি ভাব জমে যায় বাদল বিরোহীর। সঙ্গীতের প্রতি একাগ্র ভালোবাসা তাকে আজ নিয়ে এসেছে এক অনন্য উচ্চতায়।

দেশের নামকরা গুণী যে ক’জন শিল্পী শ্রোতাদের মনিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন তাদের অধিকাংশিরই জন্ম টাঙ্গাইলে। আর সেই জেলাতেই বেড়ে ওঠা কন্ঠশিল্পী সালাহউদ্দীন বাদলের। সঙ্গীতে হাতেখড়ি প্রয়াত ওস্তাদ কবিরুদ্দীন, ওস্তাদ ফরহাদ হোসেন এবং ওস্তাদ ইব্রাহীম হোসেনের কাছে।

দীর্ঘদিন সঙ্গীতকে বুকে লালন করে বেঁচে থাকা এ মানুষটি কোন এক অজানা অভিমানে ২০০২ এর পর দীর্ঘ সময় সঙ্গীত থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখেন। একটা সময় তার খুব কাছের একজন তাকে আবারোও সঙ্গীতে ফিরিয়ে আনতে নতুন উদ্যমে প্রেরণা যোগান। শিল্পী বাদল মনে করেন তার জীবনের সবচেয়ে গুণগ্রাহী ছিলেন এই মানুষটি।

এছাড়া গীতিকার-সুরকার এবং সঙ্গীত শিল্পী প্রয়াত আয়শা আক্তার বিউটিও তাকে অনেক বেশি উৎসাহ দিয়েছিলেন সঙ্গীতকে বাঁচিয়ে রাখতে।

অবশেষে দীর্ঘ বিরতির পর এ মানুষটি ফিরলেন তার সুরের জাদু নিয়ে। এসেই বেশ কয়েকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে গান গেয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করলেন।তাকে নিয়ে জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত হলো একক সঙ্গীত সন্ধ্যা । সেখানেও তিনি হারানো দিনের গান গেয়ে তার ভক্তদের হৃদয়ের মনিকোঠায় আরো বেশি জায়গা করে নিলেন। মনোমুগ্ধকর এ আয়োজনে ছিল “কালারস অব বাংলাদেশ” আর যৌথ সহযোগীতায় ছিল ওয়ালটন ও বুরো বাংলাদেশ।

জাদুঘরের ওই সঙ্গীতায়োজনে মুগ্ধ হয়েছেন অনেকেই। সালাহউদ্দিন বাদল সম্পর্কে সেই অনুষ্ঠানে সুরকার মিল্টন খন্দকার বলেছিলেন, ‘আমরা যদি বাদলকে সঠিকভাবে গাইড করতে পারতাম তাহলে সে দেশের শীর্ষ পাঁচ সঙ্গীত শিল্পীদের একজন হতো । আর কিংবদন্তী নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, ভালো শিল্পী হতে চাইলে বিনয়ী এবং ভালো মানুষ হতে হবে, আর বাদলের সে গুনটা রয়েছে।

এইতো গেলো শনিবার সকালে ‘এসএ টিভিতে’ শিল্পী বাদলের সাথে দেড় ঘন্টার আড্ডা ও গানের একটি অনুষ্ঠান ‘সকালের ডায়েরী’ গানের পালে লাগলো হাওয়া- প্রচারিত হলো। সেখানেও তিনি শ্রোতাদের উপহার দিলেন জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি গান।

badol
স্বপরিবারে শিল্পী

আড্ডাবাজ এই মানুষটির বেশিরভাগ অবসর সময় কাটে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে, বই পড়ে আর গান শুনে। তার প্রিয় শিল্পীর তালিকায় রয়েছেন ফাতেমা তুজ জোহরা, প্রয়াত নিলুফার ইয়াসমিন, সুবির নন্দি ও নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী। আর ওপাড় বাংলার মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও পন্ডিত অজয় চক্রবর্তীর গান তার খুবই প্রিয়। কখনো একাকী সময় কাঁটাতে ভালো লাগে তার।

সংসার জীবনে স্ত্রী মিনু আহমেদ এবং একমাত্র মেয়ে অবন্তিকে নিয়ে সুখেই কাটছে তার সংসার জীবন। এই দু’জন মানুষ ছাড়াও তার সঙ্গীত জীবনের অন্যতম প্রেরণা বন্ধু সহকর্মীরা। স্ত্রী মিনু আহমেদ শাহীন ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষিকা, আর মেয়ে অবন্তী নবম শ্রেণীতে পড়ে। সে এবারের জেএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাসসহ বৃত্তিও পেয়েছে। সঙ্গীতকে তিনি কখনই পেশা হিসেবে বেছে নেননি। সঙ্গীত তার জীবনে কেবলই ভালোলাগা আর ভালোবাসার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন এ শিল্পী।

পেশাগত জীবনে তিনি সাংবাদিকতা শুরু করেন টাঙ্গাইলের জনপ্রিয় দৈনিক লোককথা ও দেশ কথায় কাজ করার মধ্য দিয়ে। এরপর যোগ দেন দৈনিক ইনকিলাব এবং তারপর লন্ডন থেকে সম্প্রচারিত বেসরকারী টিভি “চ্যানেল এস এ”-তে। এরপর ইসলামিক টিভির শুরু থেকে একটানা সাতবছর সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন তিনি। সুরপাগল এ মানুষটির আরেকটি নেশা হচ্ছে সাংবাদিকতা। মানুষের জন্য কিছু করতে পারলেই নিজেকে স্বার্থক মনে করেন তিনি। শিল্পীর প্রিয় খাবার তালিকায় আছে খিঁচুরী গরুর গোস্ত, ভাত-ছোটমাছ আর লৈট্যার শুটকির কথা শুনলেই নাকি তার জিভে পানি এসে যায়।

প্রতিক্ষণ/এডি/জহির/নির্ঝর

আরো সংবাদঃ

[fbcomments]

আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
20G