২৩ বছরেও পূর্ণতা পায়নি খুমেকে’র ক্যান্সার বিভাগ!

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মিত হয়েছে ২৩ বছর আগে। আর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যান্সার বিভাগের জন্য আলাদা ভবন তৈরী হয়েছে ৫ বছর আগে। কিন্তু এখনও পূর্ণতা পায়নি গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগটি। তবে চিকিৎসা জন্য প্রয়োজনীয় মেশিনারীজ এসে পড়ে রয়েছে দুই বছরের
বেশী সময় ধরে। কিন্তু মেশিনারীজ স্থাপন সম্পন্ন ও জনবল নিয়োগ না হওয়ায় বিভাগটি থেকে দূরারোগ্য এই ব্যধির চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেনা দক্ষিণাঞ্চলের রোগীরা। অপরদিকে এই বিভাগের জন্য আনা আধুনিক যন্ত্রপাতি ঢাকায় ফিরিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল। সেবা নিতে আসা রোগীদের কথা বিবেচনায় রেখে ক্যান্সার বিভাগের গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল শুরু থেকেই। পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবন রয়েছে, আর হয়েছে বারবার চিঠি চালাচালি। সর্বশেষ ১০ কোটি টাকা মূল্যের লিনিয়ার এক্সিলেটর ও ব্রাকিথেরাপি মেশিনসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি এসে পড়ে রয়েছে ২০১২ সালে থেকে। কিন্তু আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন না হওয়া, একজন মাত্র ডাক্তার আর দুই জন সহকারী দিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সহায়তা নিয়ে কোন রকমে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কেমো থেরাপীর কাজ। সামান্য এই সেবা ভিন্ন কার্যত আর কোন সেবা প্রদান করতে পাছেনা বিভাগটি। ÂÂ
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ মৃনাল কান্তি সরকার জানান, রেডিও থেরাপির জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২টি বাংকার, কন্ট্রোলরুম, মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ড, আবাসিক সার্জনের কার্যালয়সহ প্রস্তুত রয়েছে সকল কিছু। কিন্তু মেশনারীজ স্থাপনের জন্য ২০১১-১২ অর্থবছরের পর আর কোন বরাদ্দ না পাওয়ায় দুই বছরের বেশী সময় ধরে রুমের বাইরে ও ভেতরে পড়ে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি। ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার জন্য ২০০৮-০৯ অর্থবছরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অভ্যন্তরে পৃথক ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর ক্যান্সার রোগীদের থেরাপি দেয়ার জন্য ২০১১ সালে অত্যাধুনিক লিনিয়াক লিনিয়ার এক্সিলেটর ও ব্রাকিথেরাপি মেশিন আনা হয়। গণপূর্ত বিভাগ ও হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের (এইচইডি) সমন্বয়হীনতার কারণে মেশিন স্থাপন করা হয়নি। ফলে শুরু হয়নি নতুন ভবনে সেবা কার্যক্রমও।
অপরদিকে হাসপাতালের তত্ববধায়ক ডাঃ মোঃ আব্দুস সামাদ বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যান মন্ত্রনালয় ক্যান্সার বিভাগের মেশিনারীজ স্থাপনে অর্থ ছাড় না দিয়ে বরং (লিনিয়ার এক্সিলেটর মেশিনটি) তা ঢাকার কোন হাসপাতালে স্থাপনের সুপারিশ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগ প্রকৃত পক্ষেই অকার্যকর হয়ে থাকবে। তিনি আরও জানান, এবিষয়ে আমরাও নিয়মতান্ত্রিক ভাবে অধিদপ্তরে লেখালেখি করছি যাতে মন্ত্রনালয় তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে তিন থেকে চার দফায় চিঠিও দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। আর স্থাপন করতে না পারায় ১০ কোটি টাকার থেরাপি মেশিনটি অব্যবহৃত অবস্থায়ই ইতোমধ্যে দু’বছরের ওয়ারেন্টি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে।
এদিকে মন্ত্রনালয়ের এই সিদ্ধান্তকে খুলনার উন্নয়নের অন্তরায় ও খুলনাবাসীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেন নাগরিক ও উন্নয়ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। কেননা ক্যান্সার চিকিৎসা ইন্সটিটিউটটি জরুরী ভিত্তিতে চালুর দাবি খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের। ক্যান্সার অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি চিকিৎসা। এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের পক্ষে ঢাকায় গিয়ে ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা করানো সাধ্যের বাইরে। অথচ খুলনার হাসপাতালে ক্যান্সার ইন্সটিটিউটে রেডিয়েশন মেশিন আনার পরও তা স্থাপন করা হয়নি। এমনকি দক্ষ জনবলও নেই। এ অবস্থায় মেশিনটি ঢাকায় নিয়ে যাওয়া মানে খুলনাবাসীকে বঞ্চিত করা। সে কারণে খুলনাবাসীর দাবী এ অঞ্চলের রোগীদের আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে ক্যান্সার বিভাগে জরুরী ভিত্তিতে মেশিনারীজ স্থাপন ও জনবল নিয়োগ করা হোক।


















