পাবলিক পরীক্ষার পদ্ধতিতে আসছে পরিবর্তন, শিক্ষকদের আপত্তি

প্রকাশঃ এপ্রিল ১৪, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৪২ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৪২ অপরাহ্ণ

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাসহ দেশের পাবলিক পরীক্ষার বিদ্যমান কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়া, অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সীমা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধসহ একাধিক বিষয়ে নীতিমালা ও আইন সংশোধনের উদ্যোগ চলছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে প্রচলিত পুনঃনিরীক্ষণ পদ্ধতির পরিবর্তে পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি কোনো শিক্ষার্থী ফেল করলে সর্বোচ্চ কতবার পরীক্ষা দিতে পারবে, সেই সংখ্যাও সীমিত করার কথা ভাবা হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে বিদ্যমান আইন হালনাগাদ করা হবে। ১৯৮০ সালের দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট সংশোধনের মাধ্যমে ডিজিটাল যুগের অপরাধগুলোও আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি আরও জানান, সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস বা পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে এসব কর্মকাণ্ডকে সংগঠিত অপরাধ হিসেবেও বিবেচনা করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, পুনঃনিরীক্ষণ পদ্ধতির পরিবর্তে পুনর্মূল্যায়ন চালু, ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে জালিয়াতি দমন এবং পরীক্ষার নীতিমালা আধুনিক করাই এই সংস্কার উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ফাহিম ফয়সাল জানান, বিদ্যমান আইনকে সময়োপযোগী করতে প্রাথমিক খসড়া তৈরি করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এ নিয়ে কাজ করছে।

তবে প্রস্তাবিত পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মাজহারুল হান্নান বলেন, এটি কার্যকর হলে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ বাড়তে পারে এবং খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদনও ব্যাপকভাবে বেড়ে যেতে পারে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, পুনঃনিরীক্ষণে শুধু গণনা, যোগফল বা ভুল বৃত্ত পূরণের সংশোধন করা হয়, কিন্তু পরীক্ষকের দেওয়া মূল নম্বর পরিবর্তন করা যায় না। নতুন কাঠামোয় এই নিয়ম পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতিতে খাতাগুলো নতুন করে মূল্যায়ন করা হবে, যেখানে নম্বর কমতে, বাড়তে বা একই থাকতে পারে।

এছাড়া আলোচনায় রয়েছে একজন শিক্ষার্থী ফেল করলে সর্বোচ্চ কতবার পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে, সেই সীমা নির্ধারণের বিষয়ও।

সব মিলিয়ে পাবলিক পরীক্ষার বর্তমান কাঠামোয় বড় সংস্কারের প্রস্তুতি চলছে, তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

September 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G