কী আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে? যেখানে সই করতে প্রস্তুত ট্রাম্প!

প্রকাশঃ জুন ১৩, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৫৭ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৫৭ অপরাহ্ণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ভিত্তিতে ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি?

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। খসড়া অনুযায়ী, আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও ৬০ দিন বাড়ানো হবে। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সে বিষয়েও একটি প্রাথমিক কাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমাধান নির্ভর করবে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত একটি পৃথক চুক্তির ওপর।

খসড়া নিয়ে কোথায় দাঁড়িয়ে আলোচনা?

মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের একজন কূটনীতিক জানিয়েছেন, দুই পক্ষ মূল কাঠামোর বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে এখনও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও স্বাক্ষর বাকি রয়েছে।

একাধিক সূত্রের দাবি, ইরানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে খসড়াটি ইতোমধ্যে আলোচিত হয়েছে। যদিও তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, খুব শিগগিরই স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব হবে।

গত কয়েক মাসে একাধিকবার আলোচনা অগ্রসর হলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত হয়েছিল। এবার পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা।

আলোচনার নেপথ্যে

তেহরানে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের কর্মকর্তাদের আলোচনা হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হয়। এসব আলোচনার ফলেই বর্তমান খসড়ার রূপরেখা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ইসরায়েলের নেতৃত্বের মধ্যেও বিস্ময় সৃষ্টি করেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

চুক্তির মূল শর্ত কী?

খসড়ায় ইরানের পক্ষ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে না যাওয়ার অঙ্গীকার এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংক্রান্ত বিরোধের সমাধানে সহযোগিতা।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুতের মাত্রা কমানোর একটি সম্ভাব্য পদ্ধতি বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

হরমুজ প্রণালি ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পরিকল্পনা

খসড়া অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক করা হবে এবং ধীরে ধীরে যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতিতে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সীমাবদ্ধতা শিথিল করার বিষয় বিবেচনা করবে। বিশেষ করে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনার কথা বিভিন্ন সূত্র উল্লেখ করেছে।

তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পুরো প্রক্রিয়া ইরানের চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে বলে জানা গেছে।

অবরুদ্ধ অর্থ নিয়ে অনিশ্চয়তা

বিদেশে আটকে থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রশ্নে এখনও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি। তেহরান দ্রুত অর্থ ছাড়ের পক্ষে অবস্থান নিলেও ওয়াশিংটন ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার কথা বলছে।

এ কারণে চুক্তির এই অংশটি এখনও সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নতুন নামের সম্ভাবনা

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই উদ্যোগ সফল হলে চুক্তিটি ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ নামে পরিচিত হতে পারে।

বর্তমানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের সময়সূচি নির্ধারণ নিয়ে কাজ করছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G