ডিম খাওয়ার পর যেসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত

প্রকাশঃ জুন ৩০, ২০২৬ সময়ঃ ১১:০০ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:০০ অপরাহ্ণ

ডিমকে অন্যতম পুষ্টিকর খাবার হিসেবে ধরা হয়। এতে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন, খনিজ ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে। একটি মাঝারি আকারের ডিম থেকে প্রায় ৭৮ ক্যালোরি এবং ৬ গ্রামের বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়। তাই অনেকেই দিনের শুরুতে নাশতায় ডিম রাখতে পছন্দ করেন।

তবে পুষ্টিবিদদের মতে, ডিম যতই স্বাস্থ্যকর হোক, কিছু খাবারের সঙ্গে বা খাওয়ার পরপরই সেগুলো গ্রহণ করলে হজমে সমস্যা হতে পারে কিংবা কিছু পুষ্টি উপাদানের শোষণ ব্যাহত হতে পারে। তাই কয়েকটি খাবারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ভালো।

কলা
ডিম ও কলা দুটিই পুষ্টিগুণে ভরপুর। কিন্তু কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এই দুটি খাবার একসঙ্গে খেলে কিছু মানুষের হজমে অস্বস্তি হতে পারে। ডিমের প্রোটিন ও কলার পুষ্টি একসঙ্গে ভাঙতে শরীরের বেশি সময় লাগতে পারে। তাই ডিম খাওয়ার পর কিছুটা বিরতি দিয়ে কলা খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পনির
পনির এবং ডিম দুটিই প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। পাশাপাশি পনিরে চর্বির পরিমাণও তুলনামূলক বেশি। ফলে একই খাবারে দুটিই বেশি পরিমাণে খেলে অতিরিক্ত প্রোটিন ও ক্যালোরি শরীরে প্রবেশ করতে পারে, যা হজমে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সয়া দুধ
ডিমের সঙ্গে সয়া দুধ বা অন্য ধরনের দুধ একসঙ্গে খাওয়ার বিষয়ে কিছু পুষ্টিবিদ সতর্ক থাকতে বলেন। তাদের মতে, এতে হজম ধীর হতে পারে এবং গ্যাস বা অম্বলের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া সয়া দুধের কিছু উপাদান ডিমে থাকা আয়রন ও জিঙ্কের শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে।

মাংস
ডিম ও মাংস উভয়ই উচ্চ প্রোটিনের উৎস। তাই একই খাবারে অতিরিক্ত পরিমাণে দুটোই খেলে হজমে অস্বস্তি হতে পারে। নিয়মিত এমন অভ্যাস ক্যালোরি গ্রহণও বাড়িয়ে দিতে পারে। এজন্য পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি।

চা
অনেকেরই ডিমের সঙ্গে চা খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। তবে Journal of Nutrition-এ প্রকাশিত কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, চায়ের ট্যানিন ডিমের কিছু পুষ্টি উপাদান, বিশেষ করে প্রোটিন ও আয়রনের শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা তাই ডিম খাওয়ার অন্তত এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরে চা পান করার পরামর্শ দেন।

আয়রন সাপ্লিমেন্ট
ডিম খাওয়ার পরপরই আয়রন ট্যাবলেট বা অন্যান্য খনিজ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করাই ভালো। কারণ ডিমে থাকা ক্যালশিয়াম কিছু ক্ষেত্রে আয়রনের শোষণ কমিয়ে দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট ও খাবারের মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান রাখা উচিত।

তবে মনে রাখতে হবে, এসব পরামর্শ সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। ব্যক্তিভেদে হজমক্ষমতা, খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার পার্থক্য থাকে। কোনো নির্দিষ্ট খাদ্যসংক্রান্ত সমস্যা বা রোগ থাকলে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G