এসএসসির ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট, সবচেয়ে বেশি ফেল হতে পারে যে বিষয়ে

প্রকাশঃ আগস্ট ২, ২০২৬ সময়ঃ ৬:৪৫ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৬:৪৫ অপরাহ্ণ

চলতি বছরের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে আগামী ১০ আগস্ট। শুরুতে জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও পরে কয়েক দফা সময় পরিবর্তন করা হয়। সর্বশেষ নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আগামী ১০ আগস্ট ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফল প্রকাশের সময় বারবার পরিবর্তিত হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণ নিয়ে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন দেখা গেছে।

গত কয়েক বছরের ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পাসের হার ধারাবাহিকভাবে ওঠানামা করেছে। ২০২৫ সালে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এর আগে ২০২৪ সালে ছিল ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৮০ দশমিক ৩৯ শতাংশ, ২০২২ সালে ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

এবারের ফলাফল নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। অনেক পরীক্ষকের অভিজ্ঞতায় ধারণা করা হচ্ছে, আগের বছরের তুলনায় এবার কিছু বিষয়ে ফল দুর্বল হতে পারে। যদিও চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

প্রথমদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডের পক্ষ থেকে জুলাই মাসের মধ্যেই ফল প্রকাশের প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছিল। পরে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রস্তুত না হওয়ায় প্রকাশ সম্ভব হচ্ছে না। এরপর ২৮ জুলাইয়ের পর ফল প্রকাশের সম্ভাবনার কথাও বলা হলেও সেটিও বাস্তবায়িত হয়নি।

ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা থাকলেও আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড জানিয়েছে, এতে কোনো ধরনের ফল পরিবর্তন বা অতিরিক্ত নম্বর যোগ করার সুযোগ নেই। তাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টি, বন্যা পরিস্থিতি এবং এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিসহ প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে ফল প্রকাশের প্রক্রিয়ায় সময় লেগেছে।

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ডের সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ফলাফলে কোনো ধরনের টেম্পারিং বা পরিবর্তনের সুযোগ নেই। এ ধরনের দাবি ভিত্তিহীন।

কোন বিষয়ে ফল তুলনামূলক দুর্বল হতে পারে?

দেশের বিভিন্ন জেলার একাধিক পরীক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের মূল্যায়ন করা খাতার অভিজ্ঞতায় গণিত, ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া জীববিজ্ঞান ও ইসলাম শিক্ষাসহ কিছু বিষয়ে আগের তুলনায় ফেলের সংখ্যা কিছুটা বেশি হতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।

কয়েকজন পরীক্ষক জানান, তাদের মূল্যায়ন করা অনেক খাতায় পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে ছিল। তারা দাবি করেন, মূল্যায়নের সময় নিয়ম অনুযায়ী নম্বর দেওয়া হয়েছে, অতিরিক্ত নম্বর যোগ করা হয়নি।

তবে এসব অভিজ্ঞতা নির্দিষ্ট কয়েকজন পরীক্ষকের মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া মতামত। এগুলো পুরো দেশের চূড়ান্ত ফলাফলের প্রতিফলন নাও হতে পারে।

আগামী ১০ আগস্ট ফল প্রকাশের পরই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। তখনই বোঝা যাবে, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কোন বিষয়ে পাসের হার বেশি এবং কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক বেশি সমস্যার মুখে পড়েছে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

September 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G