কোন লক্ষণ দেখে বুঝবেন আপনার শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে?

প্রকাশঃ আগস্ট ৪, ২০২৬ সময়ঃ ১০:২২ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:২৩ অপরাহ্ণ

শিশুর জন্মের পর থেকে প্রথম দুই বছর তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টি না পেলে বা বারবার অসুস্থ হলে অপুষ্টির ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশু সহজেই বিভিন্ন সংক্রমণে আক্রান্ত হয় এবং সাধারণ রোগও তাদের জন্য জটিল হয়ে উঠতে পারে।

শিশুর অপুষ্টির প্রধান ধরন

অপুষ্টি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • ক্যালরির ঘাটতিজনিত অপুষ্টি (ম্যারাসমাস)
  • প্রোটিন বা আমিষের ঘাটতিজনিত অপুষ্টি (কোয়াশিওরকার)
  • ভিটামিনের ঘাটতি, যেমন ভিটামিন এ, বি-কমপ্লেক্স, সি ও ডি
  • খনিজের ঘাটতি, যেমন আয়রন, আয়োডিন ও জিংক

যেসব লক্ষণে বুঝবেন শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে

অপুষ্ট শিশুর শরীরে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। যেমন:

  • মুখমণ্ডল ফুলে যাওয়া।
  • চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চোখের চারপাশে ঘোলাটে ভাব বা বিটোট স্পট দেখা দেওয়া।
  • মুখের কোণায় ঘা, জিহ্বা লাল হয়ে যাওয়া কিংবা মাড়ি থেকে রক্ত পড়া।
  • দাঁত উঠতে দেরি হওয়া বা দাঁতে দাগ দেখা দেওয়া।
  • চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, সহজেই পড়ে যাওয়া বা রঙ পরিবর্তন হওয়া।
  • ত্বক শুষ্ক বা ঝুলে যাওয়া, শরীর বা পায়ে পানি জমা কিংবা বিভিন্ন ধরনের ক্ষত তৈরি হওয়া।
  • নখ পাতলা ও সহজে ভেঙে যাওয়া।
  • মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া বা খিঁচুনি দেখা দেওয়া।
  • হাড় দুর্বল বা বাঁকা হয়ে যাওয়া।
  • পেট অস্বাভাবিকভাবে বড় দেখানো।
  • নাড়ির গতি দুর্বল হয়ে পড়া।
  • শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বিলম্ব হওয়া এবং স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া।
  • শিশু অতিরিক্ত খিটখিটে বা অস্বাভাবিক আচরণ করা।

অপুষ্টি প্রতিরোধে যা করবেন

শিশুকে অপুষ্টির ঝুঁকি থেকে দূরে রাখতে কয়েকটি বিষয় নিয়মিত অনুসরণ করা জরুরি।

  • প্রতি মাসে শিশুর ওজন মাপুন এবং স্বাস্থ্যকার্ডে তা লিপিবদ্ধ করুন।
  • ডায়রিয়া শুরু হলে দ্রুত খাবার স্যালাইন খাওয়ানো শুরু করুন।
  • জন্মের পরপরই শালদুধ দিন এবং প্রথম ছয় মাস শুধু বুকের দুধ খাওয়ান।
  • ছয় মাস পূর্ণ হলে বুকের দুধের পাশাপাশি বয়স উপযোগী পুষ্টিকর পরিপূরক খাবার শুরু করুন।
  • সময়মতো সব টিকা নিশ্চিত করুন।
  • গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মের পর মাকে পুষ্টিকর খাবার খেতে উৎসাহিত করুন।
  • ডায়রিয়া বা নিউমোনিয়ার মতো অসুখের পর শিশুকে অতিরিক্ত একবেলা খাবার দিন।
  • দুই সন্তানের মধ্যে অন্তত তিন থেকে পাঁচ বছরের বিরতি রাখুন।
  • ছয় মাস বয়সের পর থেকে সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী নিয়মিত ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ান।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর কৃমিনাশক ওষুধ দিন।

শিশুর বৃদ্ধি স্বাভাবিক না হলে, ওজন কমতে থাকলে বা ওপরের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দ্রুত শনাক্ত করা গেলে অপুষ্টির চিকিৎসা ও প্রতিরোধ অনেক সহজ হয়।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

September 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G