গবেষণায় মিলল পোলট্রি মাংসে অতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি

প্রকাশঃ আগস্ট ৫, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৪৯ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের পোলট্রি মুরগির মাংসে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের অবশিষ্টাংশ নিয়ে নতুন এক গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু নমুনায় এই ওষুধের উপস্থিতি আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়েও বেশি।

যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক রয়েল ভেটেরিনারি কলেজ (আরভিসি) পরিচালিত এ গবেষণায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। গবেষণার ফলাফল নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পোলট্রি উৎপাদনে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহারের বিষয়টি আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খামারে প্রাণীর রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় অতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহার এ সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।

প্রাণীর শরীরে ওষুধ প্রয়োগের পর নির্ধারিত অপেক্ষাকাল (Withdrawal Period) শেষ হওয়ার আগেই জবাই করলে মাংসে ওই ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে। এসব রাসায়নিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

গবেষণার নেতৃত্ব দেন আরভিসির ভেটেরিনারি ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজি ও অ্যানেস্থেসিয়ার অধ্যাপক লুডোভিক পেলিগ্যান্ড। তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের একাধিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরাও কাজ করেন।

গবেষণার জন্য ২০২১ ও ২০২২ সালে তিন দেশ থেকে মোট ৫৫৮টি মুরগির বুকের মাংসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এসব নমুনার একটি অংশ নেওয়া হয় বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্র থেকে এবং বাকি অংশ সংগ্রহ করা হয় বাজারজাতের উপযোগী খামারের মুরগি থেকে।

পরীক্ষার জন্য নমুনাগুলো পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ড অনুসরণ করে ৬৯ ধরনের ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়।

পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, কয়েকটি নমুনায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের মাত্রা নিরাপদ সীমা অতিক্রম করেছে। বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করা নমুনার প্রায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে নির্ধারিত সীমার বেশি অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে।

তুলনামূলকভাবে, ২০২১ থেকে ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে একই ধরনের পরীক্ষায় নিরাপদ সীমার বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পাওয়া গিয়েছিল মাত্র শূন্য দশমিক ০৫ থেকে শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ নমুনায়।

গবেষকদের ধারণা, উন্নয়নশীল দেশগুলোর কিছু ক্ষেত্রে জবাইয়ের খুব অল্প সময় আগে পর্যন্তও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ ব্যবহার করা হতে পারে। ফলে ওষুধের অবশিষ্টাংশ সম্পূর্ণভাবে শরীর থেকে বের হওয়ার সুযোগ পায় না।

অধ্যাপক লুডোভিক পেলিগ্যান্ড বলেন, এই গবেষণার ফলাফল ভেটেরিনারি খাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেছে।

উল্লেখ্য, ওয়ান হেলথ পোলট্রি হাব প্রকল্পের মাধ্যমে গবেষণাটিতে অর্থায়ন করেছে ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস রিসার্চ ফান্ড।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G