নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে আরও ২ বছর দেরির আশঙ্কা

প্রকাশঃ আগস্ট ৫, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৫০ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৫০ অপরাহ্ণ

নবম জাতীয় পে স্কেল কবে কার্যকর হবে, সেই অপেক্ষায় রয়েছেন দেশের লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে পারে বলে প্রত্যাশা থাকলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে চাকরিজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে স্কেলের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সরকারের কাছে এটি অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন করলে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে এবং বাজেট ও মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে সরকার আইএমএফের এই পরামর্শ মেনে নেওয়ার পক্ষে নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নবম জাতীয় পে স্কেলের কাজ প্রায় সম্পন্ন। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হবে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আগামী অক্টোবর মাসে আইএমএফের বার্ষিক বৈঠকের আগেই গেজেট জারির প্রস্তুতি চলছে।

বাংলাদেশে সর্বশেষ জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতি বছর নিয়মিত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। এ সময়ের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেলের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে নবম জাতীয় পে কমিশন সরকারের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত করার কথা বলা হয়।

তবে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য গত ২১ এপ্রিল একটি পৃথক পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কয়েক লাখ অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী এর আওতায় আসবেন। মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা ও পেনশন বাবদ সরকারের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

অর্থনীতিবিদদের একাংশের ধারণা, নতুন বেতন কাঠামো চালু হলে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এ কারণেই আইএমএফ বাস্তবায়নের সময় আরও পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

তবে সরকার এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে নতুন পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রয়োজন হলে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট করেছেন, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁর মতে, মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলেই প্রজ্ঞাপন জারি করতে আর বেশি সময় লাগবে না।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G