নবম পে স্কেল নিয়ে সুখবর, মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে প্রস্তাব

প্রকাশঃ আগস্ট ৯, ২০২৬ সময়ঃ ১০:২০ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:২০ অপরাহ্ণ

দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া এখন শেষ পর্যায়ের পর্যালোচনায় রয়েছে।

সবকিছু নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী সপ্তাহে অথবা চলতি মাসের শেষ দিকে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হতে পারে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি নেওয়া হবে। তবে নতুন বেতন কাঠামো ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের জন্য বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এর আর্থিক ব্যয়। নতুন কাঠামোয় বেতন বাড়লে সরকারি কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে। সেই ব্যয় সামলানোর সক্ষমতা নিয়েই মূলত হিসাব-নিকাশ চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন পে স্কেল কার্যকর করার সময় কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তবে সরকার পুরো প্রক্রিয়া স্থগিত না করে দেশের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়নের পথ খুঁজছে।

প্রয়োজনে নতুন বেতন কাঠামো একবারে পুরোপুরি কার্যকর না করে কয়েক ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে সরকারের ওপর একসঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল চালুর পর আর কোনো নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হয়নি। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীরা নিয়মিত বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি পেলেও একই সময়ে দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

এ অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে নতুন পে স্কেলের দাবি ক্রমেই জোরালো হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

কমিশনের সুপারিশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।

পরবর্তীতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল পে কমিশনের সুপারিশগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির মূল্যায়ন ও সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রস্তাবিত কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের নিয়মিত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বাড়তি ব্যয়ের অর্থ জোগাতে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো জরুরি হবে।

এদিকে নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশাও বাড়ছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি কখন উঠবে, অনুমোদন হলে প্রজ্ঞাপন জারি করতে কত সময় লাগবে এবং শেষ পর্যন্ত কোন কাঠামোয় নতুন বেতন বাস্তবায়িত হবে, এখন এসব প্রশ্নের উত্তর জানার অপেক্ষায় রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G