মানুষকে শনাক্ত না করেই নজরদারি, আসছে নতুন প্রযুক্তি
ক্যামেরা চালু থাকবে, ফুটেজও ধারণ হবে। কিন্তু সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কোনো ব্যক্তির পরিচয় বা নির্দিষ্ট বস্তুকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যাবে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় এমনই একটি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছেন মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বিল সোয়্যারিনগেন।
‘নো রিকগনেশন’ নামে পরিচিত এই প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় বিশেষ ধরনের কম্পিউটার-নির্মিত নকশা তৈরি করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ তথ্য ব্যবহার করে প্রশিক্ষিত মডেলের মাধ্যমে তৈরি এসব নকশা পোশাক বা বিভিন্ন বস্তুর ওপর প্রয়োগ করা যায়। এর ফলে ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্য বিশ্লেষণের সময় স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বিভ্রান্ত হতে পারে।
প্রযুক্তিটি ক্যামেরাকে ছবি ধারণ থেকে বাধা দেয় না। বরং ক্যামেরার মাধ্যমে ধারণ করা দৃশ্যে মানুষের মুখ, গাড়ির নম্বরপ্লেট কিংবা অন্যান্য বস্তুকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করাই এর মূল লক্ষ্য। এর ফলে শনাক্তকরণনির্ভর স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা সতর্কবার্তা পাঠানো বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে অনুসরণ করা থেকে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সোয়্যারিনগেনের ধারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারির যুগে মানুষের নিজের পরিচয় শনাক্তকরণ থেকে সরে থাকার সুযোগ থাকা উচিত। তিনি এই প্রযুক্তিকে সেই ধরনের একটি ‘অপ্ট-আউট’ ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন।
প্রযুক্তিটি তৈরিতে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলকে নতুন নতুন নকশা তৈরি করার উপযোগী করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন উন্মুক্ত উৎসের শনাক্তকরণ অ্যালগরিদমের বিরুদ্ধে এসব নকশা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় ১১টি অ্যালগরিদমের ক্ষেত্রেই নকশাগুলো শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত ডেফ কন সাইবার নিরাপত্তা সম্মেলনেও প্রযুক্তিটির ব্যবহারিক পরীক্ষা চালানো হয়। সেখানে বিশেষ নকশা ব্যবহার করা একটি গাড়ির মাধ্যমে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা প্রদর্শন করা হয়।
উদ্ভাবকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই ধরনের নকশা যুক্ত পোশাক সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বাজারে আনা হতে পারে। তবে প্রযুক্তিটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতি / এডি / শাআ



















