এআই দিয়ে ছবি তৈরি করতে এত পানি ও বিদ্যুৎ খরচ হয় কেন

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ সময়ঃ ১০:২৮ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:২৮ অপরাহ্ণ

মুঠোফোনে কয়েকটি শব্দ লিখে নির্দেশ দিলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তৈরি হয়ে যাচ্ছে দারুণ সব ছবি। কখনো আশির দশকের আবহ, কখনো সিনেমার দৃশ্য, আবার কখনো নিজের কল্পনার কোনো চরিত্র। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের কল্যাণে ছবি তৈরির কাজ এখন এতটাই সহজ যে এর পেছনে থাকা বিশাল প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নিয়ে খুব কম মানুষই ভাবেন।

কিন্তু পর্দায় একটি ছবি ভেসে ওঠার পেছনে শুধু আপনার স্মার্টফোনের কাজ নেই। দূরে থাকা ডেটা সেন্টারের শক্তিশালী কম্পিউটারগুলোকে সেই নির্দেশ বিশ্লেষণ করে ছবি তৈরি করতে হয়। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রয়োজন হয় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ। সেই কম্পিউটারগুলোকে অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে রক্ষা করতে আবার প্রয়োজন হয় পানি।

এখানেই প্রশ্ন আসে, ঘরে বসে স্মার্টফোনে একটি ছবি তৈরি করতে যদি আপনার এক ফোঁটা পানিও না লাগে, তাহলে এআই ব্যবহারের সঙ্গে পানির সম্পর্ক কোথায়?

ছবিটি তৈরি হয় কোথায়

ধরা যাক, আপনি কোনো এআই ছবি তৈরির সেবায় লিখলেন, ‘পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যাস্তের দৃশ্য তৈরি করো।’ আপনার ফোন সেই ছবিটি তৈরি করে না। নির্দেশটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৌঁছে যায় কোনো ডেটা সেন্টারে।

ডেটা সেন্টারকে বলা যায় বিশাল কম্পিউটার অবকাঠামো, যেখানে একসঙ্গে হাজার হাজার শক্তিশালী সার্ভার কাজ করে। এআইয়ের জটিল মডেলগুলো চালানো এবং আপনার দেওয়া নির্দেশের ভিত্তিতে নতুন ছবি তৈরির কাজ মূলত এসব সার্ভারেই হয়।

এ ধরনের হিসাব-নিকাশ করতে সার্ভারগুলো বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে। বিদ্যুতের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত তাপে পরিণত হয়। ফলে সার্ভার যত বেশি কাজ করে, তত বেশি গরম হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

এই তাপ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ডেটা সেন্টারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাগুলোর একটি হলো শীতলীকরণ ব্যবস্থা।

সার্ভার ঠান্ডা রাখতে পানি লাগে কেন

বড় ডেটা সেন্টারের একটি প্রচলিত শীতলীকরণ পদ্ধতি হলো বাষ্পীভবনভিত্তিক শীতলীকরণ। সহজভাবে বললে, এটি অনেকটা মানুষের ঘামের মতো কাজ করে।

গরম সার্ভারের তাপ পানি শুষে নেয়। এরপর সেই উত্তপ্ত পানি বিশেষ কুলিং ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যায়। সেখানে পানির একটি অংশ বাষ্পে পরিণত হয়ে বাতাসে চলে যায়। এই বাষ্পীভবনের ফলে অবশিষ্ট পানি ঠান্ডা হয় এবং আবার শীতলীকরণ ব্যবস্থায় ব্যবহার করা যায়।

সমস্যা হলো, এই প্রক্রিয়ায় সব পানি পুনরায় ফিরে আসে না। একটি অংশ বাষ্প হয়ে পরিবেশে চলে যায়। ফলে সেই ঘাটতি পূরণ করতে নতুন পানি যোগ করতে হয়।

আরেকটি সমস্যা তৈরি হয় পানিতে থাকা খনিজ পদার্থ নিয়ে। পানি বাষ্প হয়ে যাওয়ার পর অবশিষ্ট পানিতে লবণ ও বিভিন্ন খনিজের ঘনত্ব বাড়তে থাকে। একই পানি দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে পাইপ ও যন্ত্রপাতিতে খনিজের আস্তরণ জমতে পারে। এতে শীতলীকরণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে এবং যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

এ কারণে নির্দিষ্ট সময় পর ওই পানির একটি অংশ সরিয়ে নতুন পানি যোগ করতে হয়।

একটি এআই ব্যবহারে কত পানি লাগে

এখানে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা কঠিন। কারণ পানি ব্যবহারের হিসাব নির্ভর করে ডেটা সেন্টারের অবস্থান, শীতলীকরণ প্রযুক্তি, বিদ্যুতের উৎস, আবহাওয়া এবং কী ধরনের এআই কাজ করা হচ্ছে তার ওপর।

আইইইই স্পেকট্রামে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে ২০২৩ সালের একটি গবেষণার হিসাব তুলে ধরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের একটি গড় ডেটা সেন্টারে জিপিটি-৩ দিয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ শব্দের লেখা তৈরি করতে আনুমানিক ১৭ মিলিলিটার পানি ব্যবহৃত হতে পারে। এর মধ্যে সরাসরি ডেটা সেন্টার ঠান্ডা করার কাজে লাগে প্রায় পৌনে ২ মিলিলিটার। বাকি অংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কিত পানির ব্যবহার হিসেবে ধরা হয়েছে।

তবে এআই দিয়ে ছবি তৈরির ক্ষেত্রে হিসাব আরও অনিশ্চিত। বিভিন্ন বিশ্লেষণে একটি ছবি তৈরিতে প্রায় ২৩ মিলিলিটার পানির গড় ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। অন্য কিছু হিসাবে ৫ থেকে ৬০ মিলিলিটার বা তারও বেশি পানি ব্যবহারের অনুমান পাওয়া যায়।

এই পার্থক্যের কারণ হলো হিসাবের পদ্ধতি এক নয়। কেউ শুধু ডেটা সেন্টারের সরাসরি পানির ব্যবহার বিবেচনা করেন, আবার কেউ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত পরোক্ষ পানিও হিসাবের মধ্যে আনেন।

তুলনায় একটি সাধারণ গুগল সার্চে পানির ব্যবহার অনেক কম বলে বিভিন্ন হিসাবে উল্লেখ করা হয়, আনুমানিক শূন্য দশমিক ২ থেকে শূন্য দশমিক ৬ মিলিলিটার।

একটি ছবি তৈরিতে কয়েক মিলিলিটার বা কয়েক দশ মিলিলিটার পানি শুনতে খুব বেশি মনে নাও হতে পারে। কিন্তু প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি এআই অনুরোধ করা হলে সামগ্রিক ব্যবহারটি বড় হয়ে দাঁড়ায়।

ডেটা সেন্টারের পানির চাহিদা কতটা

যুক্তরাষ্ট্রের নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড এনার্জি স্টাডি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, একটি মাঝারি আকারের ডেটা সেন্টারে বছরে প্রায় ১১ কোটি গ্যালন পানি প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, এই পরিমাণ প্রায় এক হাজার পরিবারের এক বছরের পানির ব্যবহারের সমান।

বড় ডেটা সেন্টারের ক্ষেত্রে দৈনিক পানির প্রয়োজন আরও বেশি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে প্রতিদিন ৫০ লাখ গ্যালন পর্যন্ত পানির প্রয়োজন হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এখানে শুধু সার্ভার শীতলীকরণের পানিই বিবেচ্য নয়। ডেটা সেন্টার চালাতে বিপুল বিদ্যুৎ লাগে। সেই বিদ্যুতের একটি অংশ যদি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আসে, সেখানেও যন্ত্রপাতি ঠান্ডা রাখতে পানি ব্যবহৃত হয়।

অর্থাৎ এআইয়ের বিদ্যুৎ চাহিদা যত বাড়বে, নির্দিষ্ট কিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় তার সঙ্গে পরোক্ষ পানির ব্যবহারও বাড়তে পারে।

পানি আসে কোথা থেকে

ডেটা সেন্টারের অবস্থান অনুযায়ী পানির উৎস ভিন্ন হতে পারে। স্থানীয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, নদী কিংবা ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে পানি নেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পানিকে শোধন করে পুনরায় কাজে লাগানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

সমস্যা দেখা দেয় তখন, যখন পানির সংকটে থাকা কোনো এলাকায় বড় ডেটা সেন্টারের জন্য বিপুল পরিমাণ মিঠাপানি ব্যবহার করা হয়। তখন একই পানির উৎসের ওপর স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষি ও শিল্পের চাহিদার সঙ্গে প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে।

এই চাপ কমাতে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প পানির উৎস ব্যবহারের দিকে যাচ্ছে।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকল্প উদ্যোগ

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, ওয়াশিংটনের কুইন্সি, ক্যালিফোর্নিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো কিছু এলাকায় তারা পরিশোধিত বর্জ্যপানি ব্যবহারের পরিমাণ বাড়িয়েছে। ব্যবহৃত পানি শোধন করে এমন কাজে পুনরায় ব্যবহার করা যায়, যেখানে পানযোগ্য পানির প্রয়োজন নেই।

মাইক্রোসফটের দাবি, সিঙ্গাপুরে তাদের ডেটা সেন্টারের প্রায় ৯৯ শতাংশ শীতলীকরণে অ-পানযোগ্য পানি ব্যবহার করা হচ্ছে।

অ্যামাজনের প্রযুক্তি বিভাগ অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসও ২০২৫ সালের জুনে জানিয়েছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২০টির বেশি ডেটা সেন্টারে পরিশোধিত বর্জ্যপানি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে এতে বছরে প্রায় ৫৩ কোটি গ্যালন পানযোগ্য পানি সাশ্রয় হতে পারে।

এ ছাড়া গুগল ও মাইক্রোসফট ২০৩০ সালের মধ্যে পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘ওয়াটার পজিটিভ’ হওয়ার লক্ষ্য জানিয়েছে। অর্থাৎ তারা যত পানি ব্যবহার করবে, তার চেয়ে বেশি পানি পুনরুদ্ধার বা পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছে। অ্যামাজনও একই ধরনের লক্ষ্য গ্রহণ করেছে।

সমুদ্রের নিচে ডেটা সেন্টার

পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার কমানোর আরেকটি ধারণা হলো সমুদ্রের নিচে ডেটা সেন্টার স্থাপন।

সমুদ্রের পানি বিপুল পরিমাণে পাওয়া যায় এবং গভীর পানির তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম। তাই সার্ভার থেকে উৎপন্ন তাপ অপসারণে সমুদ্রকে প্রাকৃতিক শীতলীকরণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

এই ধারণা পরীক্ষা করতে ২০১৮ সালে স্কটল্যান্ডের অর্কনি দ্বীপপুঞ্জের কাছে সমুদ্রের তলায় পরীক্ষামূলক ডেটা সেন্টার স্থাপন করেছিল মাইক্রোসফট। প্রায় দুই বছর পর সেটি তুলে পরীক্ষা করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, একই সংখ্যক সার্ভারের স্থলভাগের ব্যবস্থার তুলনায় পানির নিচের সার্ভারগুলোর বিকল হওয়ার হার অনেক কম ছিল।

তবে পরীক্ষাটি সফল হলেও বাণিজ্যিকভাবে এই প্রযুক্তি এগিয়ে নেয়নি মাইক্রোসফট। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির ক্লাউড অপারেশনস বিভাগের প্রধান নোয়েল ওয়ালশ জানান, পানির নিচে আর ডেটা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা তাদের নেই।

অন্যদিকে চীনা প্রতিষ্ঠান হাইল্যান্ডার সমুদ্রের তলায় বাণিজ্যিক ডেটা সেন্টার স্থাপনের দিকে এগিয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, হাইনান দ্বীপের উপকূলে প্রায় ১ হাজার ৩০০ টন ওজনের একটি স্থাপনা সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ মিটার নিচে বসানো হয়েছে।

হাইল্যান্ডারের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০০টি মডিউল স্থাপন করা গেলে স্থলভাগের সমপর্যায়ের ডেটা সেন্টারের তুলনায় বছরে প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ এবং ১ লাখ ৫ হাজার টন মিঠাপানি সাশ্রয় করা সম্ভব হতে পারে।

সমুদ্রের পানি কীভাবে সার্ভার ঠান্ডা করে

পানির নিচের ডেটা সেন্টারে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি সরাসরি সার্ভারের সংস্পর্শে আসে না। সার্ভারগুলো একটি সিল করা মডিউলের ভেতরে রাখা হয়। মডিউলের বাইরের অংশ দিয়ে ঠান্ডা সমুদ্রের পানি প্রবাহিত হওয়ার সময় ভেতরের তাপ শুষে নেয়।

এখানে মূলত পানির বাষ্পীভবন নয়, তাপের আদান-প্রদান ঘটে। ফলে স্থলভাগের বাষ্পীভবনভিত্তিক শীতলীকরণের মতো বিপুল পরিমাণ পানি বাষ্প হয়ে হারিয়ে যায় না।

তবে এই প্রযুক্তিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সমুদ্রের নিচে যন্ত্রপাতি স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত এবং প্রয়োজনে সেগুলো তুলে আনা সহজ নয়। তাই প্রযুক্তিগত সুবিধার পাশাপাশি বাস্তব পরিচালন ব্যয়ও বিবেচনায় রাখতে হয়।

পানি বাঁচালে আবার বাড়ে বিদ্যুতের চাপ

ডেটা সেন্টারের শীতলীকরণে এখন আরেকটি পদ্ধতি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে, সেটি হলো বদ্ধ চক্রের শীতলীকরণ এবং ইমারশন কুলিং।

বদ্ধ চক্রের ব্যবস্থায় পানি বা বিশেষ তরল একটি আবদ্ধ ব্যবস্থার মধ্যে ঘুরতে থাকে। এতে তরল বাষ্প হয়ে হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ কমে যায়। আর ইমারশন কুলিংয়ে বিদ্যুৎ-অপরিবাহী বিশেষ তরলের মধ্যে সার্ভার ডুবিয়ে রাখা হয়।

এসব প্রযুক্তির সুবিধা হলো পানির ব্যবহার অনেক কমানো সম্ভব। কিন্তু এর বিপরীতে অতিরিক্ত তাপ অপসারণের জন্য শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে। প্রযুক্তি স্থাপন ও পরিচালনার খরচও বেশি।

ফলে এআই অবকাঠামোর ক্ষেত্রে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্যের প্রশ্ন সামনে এসেছে। পানি কম ব্যবহার করতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তে পারে, আবার পানি-নির্ভর শীতলীকরণ ব্যবহার করলে পানির ওপর চাপ বাড়ে।

এআই যত বাড়বে, চ্যালেঞ্জও তত বাড়বে

এআই দিয়ে একটি ছবি তৈরির সময় ব্যবহারকারীর চোখে প্রক্রিয়াটি কয়েক সেকেন্ডের। কিন্তু সেই কয়েক সেকেন্ডের কাজের পেছনে থাকে শক্তিশালী কম্পিউটার, বিপুল বিদ্যুৎ, জটিল শীতলীকরণ ব্যবস্থা এবং বিশাল ডেটা সেন্টার।

একটি অনুরোধের পানির ব্যবহার খুব বেশি মনে না হলেও কোটি কোটি অনুরোধ একসঙ্গে বিবেচনা করলে বিষয়টি আর ছোট থাকে না। বিশেষ করে পানির সংকটে থাকা অঞ্চলে ডেটা সেন্টারের দ্রুত বিস্তার নতুন পরিবেশগত চাপ তৈরি করতে পারে।

তাই এআইয়ের ভবিষ্যৎ শুধু আরও শক্তিশালী মডেল তৈরির ওপর নির্ভর করছে না। কম পানি ব্যবহার করে, কম বিদ্যুৎ খরচে এবং স্থানীয় পরিবেশের ওপর কম চাপ সৃষ্টি করে এসব মডেল চালানোর প্রযুক্তি উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

September 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G