টুথব্রাশে জমে থাকা জীবাণু থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে
সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত মাজা আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাস। ঘুমঘুম চোখে টুথব্রাশে পেস্ট লাগিয়ে দাঁত পরিষ্কার করার পর মুখ সতেজ লাগে। কিন্তু যে ব্রাশটি মুখের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হয়, সেটিই ব্যবহারের পর জীবাণু, লালা ও খাবারের ক্ষুদ্র কণার সংস্পর্শে আসে। ফলে ব্রাশের আঁশের ফাঁকে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু জমে থাকতে পারে।
এ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণ নেই। মানুষের মুখে স্বাভাবিকভাবেই অসংখ্য জীবাণু থাকে, যার বেশির ভাগ ক্ষতিকর নয়। তবে দাঁত মাজার পর ব্রাশের সঠিক যত্ন না নিলে তাতে জীবাণু জমার সুযোগ বাড়ে। বিশেষ করে বাথরুমের আর্দ্র পরিবেশে ভেজা ব্রাশ দীর্ঘ সময় পড়ে থাকলে এমনটি হতে পারে।
দাঁতের চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত ব্রাশ পরিষ্কার করা, ঠিকভাবে শুকানো এবং সময়মতো পরিবর্তন করাই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। টুথব্রাশের যত্নে কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন, জেনে নিন।
ব্যবহারের পর পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন
দাঁত মাজা শেষ হলে কলের পরিষ্কার পানির নিচে ব্রাশের মাথা ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এতে আঁশের মধ্যে আটকে থাকা টুথপেস্ট, লালা ও খাবারের অবশিষ্টাংশ দূর হবে। শুধু পানি ঝরিয়ে বা একবার ঝাঁকিয়ে রাখলে সব ময়লা পরিষ্কার হয় না।
ব্রাশ ধোয়ার পর অতিরিক্ত পানি ঝরিয়ে নিন। হাতলেও ময়লা জমে থাকলে সেটিও ধুয়ে পরিষ্কার করুন।
খোলা জায়গায় শুকানোর ব্যবস্থা করুন
ভেজা পরিবেশ জীবাণু বৃদ্ধির জন্য অনুকূল। তাই ব্যবহারের পর ব্রাশ এমন জায়গায় রাখুন, যেখানে বাতাস চলাচল করে এবং ব্রাশ সহজে শুকাতে পারে।
ব্রাশের মাথা ওপরে রেখে সোজা করে একটি পরিষ্কার হোল্ডারে রাখুন। একাধিক মানুষের ব্রাশ থাকলে সেগুলোর মাথা যেন পরস্পরের সঙ্গে লেগে না থাকে। এতে জীবাণু এক ব্রাশ থেকে অন্যটিতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমে।
ভ্রমণের সময় কভার ব্যবহার করতে হলে ব্রাশটি আগে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। ভেজা অবস্থায় বন্ধ কভারে রাখলে আর্দ্রতা আটকে থাকতে পারে।
তিন থেকে চার মাস পরপর বদলান
টুথব্রাশের আঁশ বা ব্রিস্টল ছড়িয়ে গেলে, বাঁকা হয়ে গেলে কিংবা ক্ষয়ে গেলে সেটি আগের মতো কার্যকরভাবে দাঁত পরিষ্কার করতে পারে না। তাই সাধারণভাবে তিন থেকে চার মাস পরপর ব্রাশ পরিবর্তন করা ভালো। তবে ব্রাশের আঁশ দ্রুত নষ্ট হলে তার আগেই নতুন ব্রাশ ব্যবহার করুন।
শিশুদের ব্রাশ তুলনামূলক দ্রুত ক্ষয়ে যেতে পারে। তাই তাদের ব্রাশের অবস্থাও নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
বাথরুমে কোথায় রাখবেন
টয়লেটের একেবারে পাশে টুথব্রাশ রাখা ভালো অভ্যাস নয়। ফ্লাশ করার সময় পানির ক্ষুদ্র কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সম্ভব হলে টুথব্রাশ টয়লেট থেকে কিছুটা দূরে, শুকনা ও বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখুন।
ফ্লাশ করার সময় ঢাকনা বন্ধ রাখার অভ্যাস করা ভালো। তবে শুধু ঢাকনা বন্ধ করলেই জীবাণু ছড়ানোর সব সম্ভাবনা দূর হয় না। ব্রাশ রাখার হোল্ডারটিও নিয়মিত ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।
দাঁত মাজার আগে হাত পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি। নোংরা হাতে ব্রাশ ধরলে বাইরের জীবাণু সহজেই ব্রাশে চলে আসতে পারে।
জীবাণুনাশক ব্যবহার করা কি জরুরি?
টুথব্রাশ পরিষ্কারের জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের জীবাণুনাশক দ্রবণ ও অতিবেগুনি রশ্মিনির্ভর যন্ত্র পাওয়া যায়। কিছু গবেষণায় নির্দিষ্ট দ্রবণ ব্যবহারে ব্রাশের জীবাণু কমার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন এসব ব্যবহার করা প্রয়োজনীয়, এমন শক্ত প্রমাণ নেই।
ব্রাশ পরিষ্কার করতে মাইক্রোওয়েভ বা ডিশওয়াশার ব্যবহার করা উচিত নয়। অতিরিক্ত তাপ ব্রাশের আঁশ ও অন্যান্য অংশ নষ্ট করতে পারে। সাধারণভাবে পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে রাখা এবং সময়মতো নতুন ব্রাশ ব্যবহার করাই যথেষ্ট।
দাঁত পরিষ্কারের সঠিক অভ্যাসও জরুরি
টুথব্রাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি দাঁত মাজার নিয়ম ঠিক রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। নরম আঁশের ব্রাশ ব্যবহার করুন। দিনে দুবার, প্রতিবার প্রায় দুই মিনিট ধরে দাঁত মাজুন। মাড়ির কাছে ব্রাশটি প্রায় ৪৫ ডিগ্রি কোণে রেখে আলতোভাবে পরিষ্কার করুন।
অতিরিক্ত জোরে দাঁত ঘষলে মাড়ি ও দাঁতের বাইরের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্লস ব্যবহার করা যায়। জিহ্বা পরিষ্কার রাখাও মুখের পরিচ্ছন্নতার অংশ।
ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধে সহায়তা করে। পাশাপাশি অতিরিক্ত মিষ্টি ও কোমল পানীয় কম খাওয়া এবং নিয়মিত ফল ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস মুখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
সুতরাং, টুথব্রাশে জীবাণু জমা নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিষ্কার পানিতে ধোয়া, খোলা জায়গায় শুকানো এবং সময়মতো ব্রাশ বদলানোর অভ্যাসই মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রতি / এডি / শাআ



















