কর্ণফুলীর পাড়ে আধুনিক স্যাটেলাইট শহর গড়ার পরিকল্পনা

প্রকাশঃ এপ্রিল ১২, ২০২৬ সময়ঃ ৬:৫৯ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৬:৫৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরকে বর্তমান সীমার বাইরে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নিয়ে বড় ধরনের নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। প্রথমবারের মতো পার্শ্ববর্তী একাধিক উপজেলা যুক্ত করে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে কর্ণফুলী নদীর দুই পাশে আধুনিক নগর কাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি স্যাটেলাইট শহর গঠনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

২০২২ সালে শুরু হওয়া এই পরিকল্পনায় সিটি করপোরেশনের বর্তমান সীমানার বাইরে গিয়ে সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া ও আনোয়ারার বিভিন্ন অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ১২৫৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটি সমন্বিত নগর ব্যবস্থাপনার রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একাধিক নতুন নগর কেন্দ্র গড়ে উঠবে।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নূরুল করিম জানান, কর্ণফুলী নদীকে কেন্দ্র করে দুই পাড়ে ভারসাম্যপূর্ণ নগর গড়ে তোলাই মূল উদ্দেশ্য। তাঁর মতে, এক পাশে মূল শহরের পাশাপাশি অন্য পাশে সমান নাগরিক সুবিধা সম্পন্ন নতুন নগর গড়ে উঠবে, যা বাস্তবে “ওয়ান সিটি টু টাউন” ধারণার প্রতিফলন ঘটাবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাগজে পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়নে অতীতের মতো নানা ধরনের প্রশাসনিক ও সমন্বয়গত জটিলতা তৈরি হতে পারে। ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিজ্ঞতাও নতুন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের প্রকৌশল খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু এলাকা বাড়ানো যথেষ্ট নয়; বরং প্রয়োজন দক্ষ জনবল, আধুনিক প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কাঠামো।

নতুন পরিকল্পনায় উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামে আলাদা দুটি স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলার পাশাপাশি শিল্প ও আবাসিক জোন পৃথকভাবে নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। তবে পাহাড়, নদী ও পরিবেশ রক্ষা করে নগরায়ন বাস্তবায়ন করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে শিল্প, আবাসন ও নাগরিক সুবিধার সমন্বয় না ঘটলে স্যাটেলাইট শহরের মূল লক্ষ্য পূরণ কঠিন হয়ে পড়বে। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়নের ভারসাম্যও নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে পরিবেশবিদরা মনে করছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও টোল কাঠামোর জটিলতাও নগর সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাদের মতে, কর্ণফুলী নদীকে কেন্দ্র করে দুই পাড়ের সংযোগ সহজ করতে হলে নীতিগত কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত এই মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত ভেটিং শেষে আগামী ডিসেম্বরে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অনুমোদন পেলে চট্টগ্রামকে আরও বিস্তৃত, পরিকল্পিত ও আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তোলার নতুন দিক উন্মোচিত হবে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

May 2026
SSMTWTF
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031 
20G