অভিশাপে অবিশ্বাসী—-শতাব্দী এষ

নদী ভাঙনে যার ঘর ভাঙে , সে কী নদীরে দেয় অভিশাপ ?
তারপরও নদী মরে মরে যায়, এসব কাদের যেন পাপ !
পাপ আর পূণ্যগত ধারণাও আপেক্ষিক- সংশয়ের বাতাস
ভারী করে তোলে জমাট অন্ধকারের বিস্ময়-দ্রবণ
পাখিদের চিনি না আমরা, ফুলেদের চিনি না আমরা
আমাদের সাথেও আমাদের কেবল আপাত পরিচয় !
ছোটবেলায় নদী ছিল ঘুড়ি ওড়ানো আকাশের সমার্থক
রাতের তারার দেশ লজেন্সের চেয়েও লোভনীয়,
বাড়িতে ফাঁকি মেরে হ্যারিকেন-পথ
রাতভর তারা দেখার উৎসব টেলিস্কোপ বিহীন,
সেসব মুখর স্তব্ধতার অন্যরকম অভিজান
নদী আর হ্যারিকেন,
এ-শহর কেবল জানে অথবা জানে না- তোমাদের
লুপ্ত হবার ইতিহাস- মোমের দুঃখ নিয়ে তারা নামে
একই আকাশের সন্ধ্যা-ছায়ায় তারপরও কতটা তফাৎ-
স্মৃতির সাজানো গ্রাম,
সন্ধ্যা-প্রদীপের সাথে তারারাও জ্বলে ওঠে, বঁধুবিলে অথবা হেলেঞ্চার গাঙে,
সেখানে ভাঙনেরা সাঁকো হয়ে যায়, ঘরভাঙা মানুষেরা
দুঃখের পেরেক গেঁথে নতুন চৌয়ারি-ঘর বাধে !
এসবের কোনো খবর জানি না আমি, কল্পনার সাঁকোতে পার হই
যানযটে মোড়ানো শহর, সকাল সাড়ে সাতটার বাসে
রাস্তাগুলোকে নদী মনে হতে হতে সে সুখও ভেঙে যায়
আটটার জ্যামের ভেতর-
নদী আর কতটুকু ভাঙে ! শুধু অভিশাপ ধুয়ে দেয়
প্লাবনে প্লাবনে, আমরাই বুঝতে পারি না প্রকৃতির হিসাব,
প্রযুক্তির র্যাপিংপেপারে ঢাকা চোখের ধারাপাত- জল দেখে সড়ক-ফোয়ারায় !
























