আদর্শ থেকে সরে আসলেই কেবল সংঘর্ষ হয়ঃ নয়ন

প্রকাশঃ আগস্ট ৮, ২০১৫ সময়ঃ ১০:১৮ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৩:২৭ অপরাহ্ণ

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান রুবেল , প্রতিক্ষণ ডট কম

netaশিশু কাল হতেই নেতৃত্ব দেয়ার ইচ্ছা । তার পরে শৈশবে বন্ধুদের মধ্যে নেতা হওয়ার ভাব প্রকাশ পেয়েছে । তাই তো স্কুল জীবন হতেই রাজনীতির ছোঁয়া পেয়েছেন ।

প্রথমে সেচ্ছাসেবক লীগের সাথে সম্পৃক্ততায় রাজনীতির হাতের খড়ি । পরে হয়েছেন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী । এখন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে রয়েছেন । করছেন ক্যাম্পাস পরিচালনা । কথা হচ্ছিল হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের অন্যতম নেতা নাহিদ আহমেদ নয়ন এর সাথে ।

ছাত্র রাজনীতির অনেক বিষয়ে প্রতিক্ষন ডট কম এর ক্যাম্পাস প্রতিনিধি রুবেল এর সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে উঠে আসে তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় ।

প্রতিক্ষণ : কেমন আছেন ?

নয়ন : আলহামদুল্লিহ । আছি বেশ ভালই । ক্যাম্পাসে আসার পর থেকে ব্যস্ততা বেড়েছে ।

প্রতিক্ষণঃ ঈদ কাটালেন কেমন?

নয়ন : খুবই ভাল কাটল এবারের ঈদ । ঈদের আগে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে থাকা বন্ধুদের সাথে জমিয়ে আড্ডা দেয়া । ঈদের নামাজ সবার সাথে ঈদ গাহে আদায় করে নেতা কর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ । আত্মীয়দের বাসায় ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদি করে বেশ ভালই হয়েছে ।

প্রতিক্ষণ :আপনার ক্যাম্পাসপূর্ব শিক্ষা জীবন নিয়ে কিছু বলুন?

নয়ন : প্রাইমারী ও মাধ্যমিক দিনাজপুর জিলা স্কুল । তার পরে ২০০৬ সালে এস এস সি । দিনাজপুর সরকারী কলেজ হতে ২০০৮ সালে এইচ এস সি ।

প্রতিক্ষণঃ আপনার রাজনীতি কবে শুরু হয় ?

নয়ন :  প্রথমে নবম শ্রেণীতে থাকাকালীন এলাকায় সেচ্ছাসেবক লীগে কাজ করি । পরে কলেজে সক্রিয় ছাত্রলীগের রাজনীতে কাজ করতে থাকি । আর ক্যাম্পাসে আসার প্রথম দিন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে কাজ করছি।

প্রতিক্ষণঃ আপনার রাজনৈতিক জীবনে কখনও কি বাঁধা পেয়েছেন?

নয়ন : আসলে রাজনীতি করলে বিরোধী দলের বাঁধা আসবে এটাই স্বাভাবিক । আমার মনে পড়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে একটা জায়গায় একটা রাজনৈতিক অনুষ্ঠান করাকে নিয়ে সেই এলাকার বিএনপি , জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাঁধা দিয়েছিলো ।

প্রতিক্ষণঃ কখনও কি রাজনীতির ক্রান্তিকাল পাড় করেছেন আর করে থাকলে তখন তা কিভাবে মোকাবেলা করেছেন ?

নয়ন : ক্যাম্পাসে প্রায় বছর খানেক আগে একটা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করেছি । তখন যারা নেতৃত্বে ছিল তাদের নানা অপকর্মের সাথে আমি একমত হতে পারিনি । আর তা থেকে ক্যাম্পাসকে মুক্ত করতে চেয়েছি । এখন অবশ্য আল্লাহর রহমতে সেই ক্রান্তিকাল পাড় করতে পেরেছি ।

প্রতিক্ষণঃ একই দলের মধ্যে গ্রুপে গ্রুপে সংঘর্ষ হয় কেন ?

নয়ন : দল কখনো খারাপ নয় । দল তার নিজের আদর্শ মতে চলে । কিন্তু যারা দলের আদর্শ থেকে দূরে এসে নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে তাদের জন্যই আর এক গ্রুপ তৈরি থাকে যারা কিনা তাদের এই অপকর্মের বিরোধীতা করবে । তাই অবশেষে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয় ।

প্রতিক্ষণঃ এই গ্রুপে গ্রুপে সংঘর্ষ কমানো যায় কিভাবে বলে আপনি মনে করেন ?

নয়ন : আসলে কেউ দল করতে চাইলে তাকে সব নিয়ম মেনে চলতে হয় দলের । দলের আদর্শের সাথে নিজের আদর্শের মিল রাখতে হয়। আর এই গ্রুপে গ্রুপে মারামারি কমানোর জন্য যারা নেতা থাকবে তাদের উচিৎ হবে কর্মীদের উপর বিশেষ নজর রাখা । কোথায় কোন গ্রুপ যেন দলের আদর্শ বহির্ভূত কাজ না করে এই জন্য খেয়াল রাখতে হবে ।

প্রতিক্ষণ : হাবিপ্রবিতে নেতৃত্ব পাওয়ার পর কি কি কাজ করেছেন?

নয়ন : আপনারা জানেন কিছুদিন আগে ক্যাম্পাসে অরাজকতা চলছিলো । আমরা আসার পর আমি তা সাধারন ছাত্রদের সাথে নিয়ে দূর করতে সক্ষম হয়েছি । আর এখন ক্যাম্পাসে পড়াশুনার সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় আছে । আগে শিক্ষকদের সাথে ছাত্রদের একটা সম্পর্কের দুরুত্ব তৈরি হয়েছিলো । যা এখন ছাত্র-শিক্ষদের সাথে বন্ধু সুলভ সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে । সেশন জোট কমে এসেছে এখন অনেকটা । ২০১১ সালে ৬ মাসের সেমিস্টার শেষ করতে সময় লেগেছিল প্রায় ১৪ মাস । আর এখন লেভেল ২ সেমিস্টার ১ এর শেষ হয়েছে মাত্র সাড়ে তিন মাসের মধ্যেই ।

প্রতিক্ষণ : ক্যাম্পাসকে নিয়ে সামনের দিনে কী কী পরিকল্পনা করছেন এখন?

নয়ন : ছাত্রদের সব প্রয়োজন মেটাতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ । আমরা রাজনীতি করি ছাত্রদের কল্যাণের জন্য । আর তাই ছাত্রদের যেকোন যৌক্তিক দাবীর আথে আমরা একাত্বতা প্রকাশ করবো । ক্যাম্পাসে পড়াশুনার সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো ।

প্রতিক্ষণ : ছাত্রজীবন শেষ করে রাজনীতি করবেন কিনা ?

নয়ন : হ্যা আমি ছাত্রজীবন শেষেও রাজনীতি করব । যদি চাকুরী করি তাহলে সময় পেলেই রাজনীতি করব । আর যদি ব্যবসা করি তাহলে সক্রিয় রাজনীতিতে থাকবো বলে আশা করছি ।

প্রতিক্ষন : আপনি যেহেতু কৃষি নিয়ে পড়াশুনা শেষ করতে চলেছেন , তাহলে কৃষি নিয়ে আপনার কি পরিকল্পনা?

নয়ন : বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ । তাই কৃষিতে উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন । তাই ইচ্ছা আছে বড় ফার্ম দেয়ার । যাতে করে কিছু লোকের কর্মসংস্থান হয় । আর পাশাপাশি আমার এবং দেশের উন্নয়ন করতে পারি ।

প্রতিক্ষণ : আমাদের আপনার মুল্যবান সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ ।

নয়ন : আপনাকেও ধন্যবাদ ।

প্রতিক্ষণ/এডি/তাফসির

আরো সংবাদঃ

[fbcomments]

আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
20G