কৃষি উন্নয়নে আশীর্বাদ ‘রাবার ড্যাম’

প্রকাশঃ মার্চ ১৪, ২০১৬ সময়ঃ ৮:২৫ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:১৭ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ মানিক হোসেন (দিনাজপুর প্রতিনিধি)

index

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার রাবার ড্যাম প্রকল্প কৃষি উন্নয়নে আশীর্বাদ ও কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করেছে। উপজেলার সাইতাড়া ইউনিয়নের কাঁকড়া নদীতে সেচ কাজে নির্মিত রাবার ড্যামের অবিরাম স্রোতধারা  নদীর দু’কূলের প্রায় ৫ হাজার কৃষক পরিবারের ৫০ হাজার মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। কৃষকদের ভাগ্য বদলের পাশাপাশি ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চিরিরবন্দর উপজেলার কৃষকদের কৃষি উন্নয়নে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ২০০১ সালে উপজেলার কাঁকড়া নদীর উপরে দিনাজপুর এলজিইডির ৮কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে ১’শ ৩০ ফুট দীর্ঘ রাবার ড্যামটি নির্মাণ করে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা যায়, এ রাবার ড্যাম নির্মাণের ফলে চিরিরবন্দর উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আত্রাই ও কাঁকড়া নদীর ১০কিলোমিটার এবং পার্শ্ববর্তী ১২কিলোমিটার এবং কয়েকটি শাখা খাল বছরের পুরো সময় পানিতে ভর্তি থাকে। ফলে উপজেলা এলাকার ২৪টির মধ্যে ১২টি ব্লকের ১২হাজার ২’শ ৫ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

রাবার ড্যাম নির্মাণের পর কুশলপুর, খোচনা, পশ্চিম সাইতাড়া, দক্ষিণ পলাশবাড়ী, উত্তর ভোলানাথপুর, আন্দারমুহা, অমরপুর, ভিয়াইল, কালিগঞ্জ, তালপুকুর, পুনট্রি, উচিতপুর, তুলশিপুর,নারায়ণপুর ও গোবিন্দপুর  গ্রামের ৪ হাজার ৯’শ ৫০ জন কৃষক ড্যামের পানি ব্যবহার করে বর্তমানে তারা স্বাবলম্বী ও স্বনির্ভর।

সাইতাড়া গ্রামে কৃষক মো: এনতাজুল হক জানান, আমাদের জমিগুলো উর্বর হওয়া সত্ত্বেও সেচের অভাবে ইতিপূর্বে অনাবাদি ছিল। রাবার ড্যাম নির্মিত হওয়ায় এখন কয়েকটি এলাকায় ৪টি ফসল হচ্ছে। আমন, ইরি, আলু, সলিষা, ভূট্রা, গম সহ অন্যান্য ফসলের চাষ করে আমরা লাভবান হচ্ছি।

কৃষিকার্যে চাহিদা অনুযায়ী নদী ও খাল থেকে পানি তুলে কৃষকেরা অনায়াসে জমিতে সেচ দিতে পারছেন। তিনি জানান, তার নিজের ৩ বিঘা জমি আছে এবং ২বিঘা বর্গা নিয়েছেন।

একই কথা বললেন, কৃষক পলাশ চন্দ্র, দেবেন্দ্র নাথ রায়, মশির উদ্দিন, বাবু অনিল, মহেন্দ্র নাথ রায়, আঃ কালাম ও সফল কৃষক নজির উদ্দিন (শাকিল)। রাবার ড্যাম প্রকল্প গিয়ে দেখা গেছে, উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে কাঁকড়া নদীর উপরে রাবার ড্যামটি নির্মিত হওয়ায় নদীর উত্তর দিকে যতদুর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। কোথাও ১৫ফুট আবার কোথাও ২০ফুট পানির গভীরতা লক্ষ্য করা গেছে। দেখে মনে হল, বর্ষাকালের মতই নদীর ভরাট অবস্থা। সেচ ব্যবস্থার পাশাপাশি কাকড়া নদীতে চলছে ছোট-বড় অনেক নৌকা।

এসব নৌকা দিয়ে মানুষ এপার ওপারে যাতায়াত করতে দেখা গেছে এবং ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ভাটিতে ড্যামের অল্প পানিতে মাছ ধরছে ও খেলছে। রাবার ড্যামের উপরে একটি ফুট ব্রীজ ও পার্শ্বে দর্শনাথীদের সুবধার্থে কংক্রিটের ঢালাই করা ছাতা, বসার বেঞ্চ ও বাংলো ঘর নির্মিত হয়েছে। রাবার ড্যামের পশ্চিম-উত্তর  দু’ধার দিয়ে গড়ে উঠেছে বাজারের মতো শতাধিক দোকান পাট। ফলে রাবার ড্যাম প্রকল্প এলাকার চিত্র বদলে দিয়েছে। এলাকার অনেক বেকার মানুষের কর্মসংস্থান  সৃষ্টি  হয়েছে। রাবার ড্যামের উপরে ফুট ব্রীজ নির্মিত হওয়ায় ৮নং সাইতাড়া, ৫নং আব্দুলপুর ও ৭নং আউলিয়াপুকুর এলাকার মানুষের মিলন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে রাবার ড্যাম এলাকা।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন দর্শনার্থীরা রাবার ড্যাম প্রকল্প পরিদর্শনে এসে থাকেন। এছাড়াও শীত মৌসুমে এখানে অনেক পিকনিক পাটি এসে আনন্দ উপভোগ করে থাকেন। রাবার ড্যাম প্রকল্পের আর্শিবাদে শুধু কৃষকদের ভাগ্যই বদলায়নি, ঐ এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশেও ভারসাম্য এনেছে, স্বাবলম্বী ও উন্নয়নে এগিয়ে চলছে কৃষকরা।

#লাইক ও শেয়ার দিয়ে প্রতিক্ষণের সাথে থাকুন।

প্রতিক্ষণ/এডি/এফটি

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

October 2022
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
20G