ঘোর ভেঙে দাও—-শতাব্দী এষ

প্রকাশঃ মে ১৭, ২০১৫ সময়ঃ ৫:৪০ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:০২ অপরাহ্ণ

gororgari3 দেয়াল ভাঙলে আরেকটা দেয়াল বেরিয়ে আসে

অন্দরমহল কোথাও দেখি না । ধূপখোলা গ্রাম থেকে
এ-শহরের আকাশ আলাদা , মাটিরও বদলে যায় রং

পিয়ালবনের বংশীবাদক হারিয়ে গেছে অমাবস্যার
তাল তাল অন্ধকার নেশায়- অথচ জোনাকীরা
সেখানেই ঘুরেফিরে ছোট্ট আলোর কথা বলে !

দেয়াল ভাঙলে আরেকটা দেয়ালের মুখ রূপকথার আয়না সেজে
জানতে চায়- কার শক্তি বেশি, আলো না অন্ধকারের ?
একটা ধানীরঙা মাঠ মাথা তুলে বলে, ”মেঘের কাছে তার
উত্তর পাবে, পবিত্র সূর্যের পীঠ আমরা তো দেখিনি কখনো, কেবল দেখেছি
রংধনুর হাসি আর বিদ্যুতের সহজ খেলার বন্ধন !”

সে মাঠের আলগুলো দেয়ালের মতো দুঃখী নয় ।
বুকের ভেতরে তার আকাশের ছায়া অবিচল- উদার স্তম্ভের মতো
কখনো তা যায় না সরে-

অন্দরমহল আর বাহিরমহল বলে কোনো কিছু নেই
কোনোখানে, শ্যামল মাঠেরা জানে, নদীরাও জানে,
মানুষ কেবল বানিয়ে চলে মিথ্যা দেয়াল ভরা ঘর,
বিভেদ বাসিন্দা হয়ে বসবাস করে পরস্পর,
লেমনেড সময়ে অর্থহীনতার শোক নিয়ে-

হায় মাঠ, হায় নদী, হায় রংধনু ,
তোমাদের বুকে জন্মাক সবুজ পাহাড়, তবু
সেখানে না-থাকে যেন লক্ষিন্দরের ঘর, ছিদ্রময় কৌশলী দেয়াল
মানুষকে ঋণী হতে দাও তোমাদেরই কাছে-
জলের গভীরতা মিশে যাক চোখের নোন্‌তায়,
হৃদয়ে তৈরি হোক তিসির ফুলের মতো নীলাভ আকাশ

 

শ্বেতা শতাব্দী এষ    
বাংলা বিভাগ,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G