জুবায়েরের মা রায়ে খুশি
অনলাইন ডেক্স, প্রতিক্ষণ ডটকম :
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জুবায়ের হত্যা মামলার রায়ে অভিযুক্ত ১৩ জনের সবার ফাঁসি হলেই ভালো হতো বলে মন্তব্য করেছেন জুবায়ের আহমদের মা হাসিনা আহমেদ। তবুও তিনি এ রায়ে খুশি।
তিনি বলেন, যারা অভিযুক্ত তাদের মধ্যে কয়েকজন হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবুও তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারপরেও আদালত যে রায় দিয়েছেন তাতে আমি খুশি। অবিলম্বে রায় কার্যকারের দাবি জানান তিনি।
নিহত জুবায়েরের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রায়ে আমরা খুশি। তবে যাদেরকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে তাদের অধিকাংশ দেশের বাইরে অবস্থান করছে। তারা কিভাবে দেশের বাইরে চলে গেল সে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এই পরিপ্রেক্ষিতে ফাঁসি কার্যকর নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। অবিলম্বে তিনি তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের দাবি জানান।
নিহত জুবায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৩৭তম ব্যাচের ছাত্র ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া শহরের নৌবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত তোফায়েল আহমেদদের ছেলে। তার দুই ছেলের মধ্যে জুবায়ের ছোট। বড় ছেলে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
এদিকে জুবায়ের হত্যায় মামলায় আদালতের রায়কে স্বাগত জানিছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। জুবায়ের হত্যার হওয়ার পর থেকে বিচারের দাবিতে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলন করে আসছে তারা।
সংগঠনটির অন্যতম সংগঠক জাবি ছাত্রইউনিয়নের সভাপতি তন্ময় ধর বলেন, আমরা আদালতের এ রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা মনে করি আদালত সব কিছু দেখে-শুনে এ রায় দিয়েছেন। অবিলম্বে রায় কার্যকর দাবি করেন তিনি।রায়ে খুশি জুবায়েরের মা
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়ের আহমেদকে ছাত্রলীগের কর্মীরা রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। এরপর তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ওইদিন রাতেই রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ভোরে মারা যান জুবায়ের।
এ ঘটনায় তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (নিরাপত্তা) হামিদুর রহমান বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় ১৩জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার রায়ে পাঁচজনকে ফাঁসি ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। রবিবার ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মামলার ১৩ জন আসামির মধ্যে বাকি দুজন বেকসুর খালাস দেন।
মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন, ছাত্রলীগ কর্মী খন্দকার আশিকুল ইসলাম আশিক, মো. রাশেদুল ইসলাম রাজু, খান মো. রইছ সোহান, জাহিদ হাসান এবং মাহবুব আকরাম।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্তরা হলেন, ইশতিয়াক মেহবুব অরূপ, নাজমুস সাকিব তপু, মাজহারুল ইসলাম, কামরুজ্জামান সোহাগ, শফিউল আলম সেতু এবং অভিনন্দন কুণ্ডু অভি। তাদেরকে কারাদণ্ডের অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস পেয়েছেন মো. নাজমুল হুসেইন প্লাবন ও মো. মাহমুদুল হাসান মাসুদ।
প্রতিক্ষণ/এডি/জুবায়েদ






















