নির্ধারিত সময়েই কার্যকর হচ্ছে নতুন পে-স্কেল

প্রকাশঃ জুলাই ২৫, ২০২৬ সময়ঃ ১১:৫৪ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:৫৪ অপরাহ্ণ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। অর্থ মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫-এর সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত কমিটি চলতি মাসের মধ্যেই তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিতে পারে। এরপর বিষয়টি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নীতিগত কার্যক্রম শেষ হলে আগামী আগস্টের মধ্যে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গেজেট প্রকাশের সময় কিছুটা পিছিয়ে গেলেও নতুন বেতনকাঠামোর আর্থিক সুবিধা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণনা করা হতে পারে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীরা ওই তারিখ থেকেই সংশোধিত বেতনের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

নতুন পে-স্কেল এক ধাপে কার্যকর হবে নাকি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং মন্ত্রিসভাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।

এবারের পে-স্কেলে শুধু মূল বেতন বাড়ানোর বিষয় নয়, বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধাও পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা রয়েছে। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াত ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। একই ধরনের কয়েকটি ভাতা একীভূত করার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, পে-স্কেল বাস্তবায়ন নির্ধারিত সময়েই হবে এবং এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো কারণ নেই। তার ভাষ্য, বাজেট অধিবেশনেই এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গেজেট প্রকাশসহ আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগলেও বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন নেই।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ বলেছেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে সাবেক সচিব জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের নবম পে কমিশন গঠন করা হয়েছিল। প্রায় ছয় মাস পর্যালোচনার পর কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে বিভিন্ন গ্রেডে বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়।

যদিও সুপারিশ চূড়ান্ত হয়েছিল আগেই, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার সেটি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বর্তমানে বিষয়টি সচিব পর্যায়ের কমিটিতে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। এখন সরকারি চাকরিজীবীদের নজর গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
20G