প্রতারণা ও ফাঁকি দেয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়

প্রকাশঃ মার্চ ৫, ২০১৫ সময়ঃ ১১:০২ পূর্বাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:০২ পূর্বাহ্ণ

ধর্ম চিন্তা ডেস্ক, প্রতিক্ষণ ডটকম:

Fraudপ্রতারণা ও ফাঁকি দেয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। কোনো যথার্থ মানুষ এটা করতে পারে না। সত্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করে অন্যদের বিভ্রান্ত করা সততার পরিপন্থী। আর সততার জন্য প্রয়োজন আন্তরিকতা, ন্যায়নীতি ও সরলতা।

সেখানে প্রতারণা, প্রবঞ্চনা, মিথ্যাচার, ধূর্ততা ও ফাঁকিবাজির কোনো স্থানই নেই। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের অনেক বাণীতে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, প্রতারণার টার্গেট মুসলিম কী অমুসলিম, যে-ই হোক না কেন, তা সব সময়ই নিষিদ্ধ।

 

ইসলামের পথনির্দেশনা প্রকৃত অর্থে গ্রহণ করে নিলে একজন মানুষ সত্যপরায়ণতার দিকে পরিচালিত হয়ে থাকেন। অর্থাৎ তখন তিনি প্রতারণা ও পরনিন্দা পরিহার করে চলেন সর্বতোভাবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে, সে আমাদের লোক নয় এবং যে কেউ আমাদের প্রতারিত করবে, সেও আমাদের লোক নয় (সহিহ মুসলিম)।

আরেক হাদিসে জানা যায় রাসূল সা: বাজারে খাদ্যশস্যের স্তূপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি এর ভেতরে হাত ঢোকালেন এবং অনুভব করলেন ভেজা ভেজা ভাব। অথচ স্তূপটির বাইরের দিক ছিল শুকনা। তিনি এই পণ্যের মালিককে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ব্যাপার কী?’ লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল সা:, এই শস্য বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে। রাসূল সাঃ তাকে বললেন, বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত খাদ্যশস্য কেন স্তূপের ওপরের দিকে রাখনি? তা হলে লোকজন তা দেখতে পেত। যে প্রতারক, সে তো আমাদের কেউ নয়।’ (মুসলিম)

মুসলিম সমাজের ভিত্তি অনুভূতির পবিত্রতা, ভালোবাসা, প্রত্যেক মুসলমানের প্রতি দরদ এবং সমাজের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে অঙ্গীকার পূরণ। আর এই সমাজের সদস্যরা আল্লাহর ভয়, সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার গুণে গুণান্বিত। প্রতারণা বা ধোঁকাবাজি সত্যিকারের মুসলমানের সুমহান চরিত্রের বিপরীত। ইসলামে কোনো জায়গা নেই জালিয়াত, বাটপাড়, প্রবঞ্চক, ধূর্ত ও বিশ্বাসঘাতকের।

প্রতারণা ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্য পাপ। যে এটা করে, তার জন্য তা খুবই লজ্জাকর। আর এই লজ্জা ইহকাল ও পরকাল, উভয় জীবনেই। রাসূল সা: প্রতারকদের নিন্দা করেছেন এবং তাদের মুসলিম সমাজে অন্তর্ভুক্ত করেননি। শুধু তাই নয়; তিনি ঘোষণা করেছেন, শেষ বিচারের দিনে প্রত্যেক প্রতারক বা বিশ্বাসহন্তার পুনরুত্থান ঘটবে ওদের বিশ্বাসঘাতকতার পতাকা বহন করা অবস্থায়।

হাশরের বিশাল ময়দানে একজন আহবানকারী প্রতারকের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ এবং ওর প্রতি সবার মনোযোগ আকর্ষণ করে চিৎকার দিয়ে বলবেন, পুনরুত্থান দিবসে প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের একটি করে পতাকা থাকবে এবং তার এই প্রতারণার ধরন তুলে ধরা হবে (সহিহ বুখারি)।

ভণ্ড-প্রতারকদের সম্পর্কে রাসূল সা: বলেছেন, চারটি বৈশিষ্ট্য আছে; যার এগুলোর সব ক’টিই রয়েছে সে প্রকৃত প্রতারক বা মুনাফিক। আর যার মধ্যে দেখা যায় এগুলোর কোনো একটি বৈশিষ্ট্য, তার আছে মোনাফেকির একটি দিক যে পর্যন্ত না সে তা ত্যাগ করে। বৈশিষ্ট্য চারটি হচ্ছে তাকে বিশ্বাস করা হলে সে করে বিশ্বাঘাতকতা। যখন সে কথা বলে, সে বলে থাকে মিথ্যা। ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে এবং ঝগড়া বিবাদের সময় অন্যকে দেয় অপবাদ (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)।

যে মুসলমানের মধ্যে ইসলামের প্রকৃত অনুভূতি থাকে, সে প্রতারণা, ফাঁকি দেয়া, বিশ্বাসঘাতকতা এবং মিথ্যা বলা বর্জন করে চলে। এসব স্বভাবের কারণে তার কথিত লাভ বা ফায়দা হওয়ার সুযোগ থাকলেও সে এগুলো করে না। কারণ ইসলাম এসব অপকর্মে লিপ্ত অপরাধীদের গণ্য করে মুনাফিক হিসেবে।

প্রতিক্ষণ/এডি/ইসলাম

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

April 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930 
20G