বৃষ্টির ছোঁয়ায় ফুলে ফুলে ছেয়ে গেল বিশ্বের শুষ্কতম মরুভূমি

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ সময়ঃ ৮:৫৩ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:৫৩ অপরাহ্ণ

চোখজুড়ে যতদূর দেখা যায়, সাধারণত সেখানে শুধু বালি আর পাথুরে মাটি। বৃষ্টির দেখা মেলে খুব কম, গাছপালার উপস্থিতিও সামান্য। চিলির আতাকামা মরুভূমির পরিচিত দৃশ্য এমনই। কিন্তু প্রকৃতির এক বিরল পরিবর্তনে সেই চেনা চেহারা এখন পুরোপুরি পাল্টে গেছে। মরুভূমির বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে গেছে নানা রঙের ফুলে।

বিশ্বের সবচেয়ে শুষ্ক মরুভূমি হিসেবে পরিচিত আতাকামা চিলির উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। এখানকার আবহাওয়া এতটাই শুষ্ক যে বছরের বড় একটি সময় বৃষ্টিপাত হয় না। এ কারণে উদ্ভিদ ও প্রাণীর সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে খুব কম।

তবে এই শুষ্কতার মধ্যেও প্রকৃতি নিজের মতো করে জীবনের সম্ভাবনা ধরে রাখে। কয়েক বছর পরপর নির্দিষ্ট আবহাওয়াগত পরিস্থিতি তৈরি হলে মরুভূমির মাটির নিচে দীর্ঘদিন সুপ্ত অবস্থায় থাকা ফুলের বীজ সক্রিয় হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত আর্দ্রতা পেলে সেগুলো অঙ্কুরিত হয়ে একসময় ফুলে পরিণত হয়।

বালুর বদলে রঙিন ফুলের বিস্তার

আতাকামায় এমন ফুলের বিস্তার দেখা দিলে স্থানীয়ভাবে একে ‘ফুলে ফোটা মরুভূমি’ বলা হয়। অনুকূল পরিস্থিতিতে প্রায় ২০০ প্রজাতির ফুল ফুটতে পারে। তখন বিস্তীর্ণ মরুভূমি বেগুনি, সাদা, হলুদসহ নানা রঙে ভরে ওঠে।

দূর থেকে তাকালে মনে হয়, ধূসর ও বাদামি বালির ওপর বিশাল কোনো রঙিন চাদর বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে বছরের অধিকাংশ সময় উদ্ভিদের চিহ্নও খুঁজে পাওয়া কঠিন, সেখানেই অল্প সময়ের ব্যবধানে তৈরি হয় চোখজুড়ানো ফুলের সমারোহ।

এবারও আতাকামায় এমন বিরল দৃশ্য দেখা দিয়েছে। গত আগস্টে এল নিনোর প্রভাবে মরুভূমির কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হয়। একই সময়ে তাপমাত্রাও তুলনামূলক কম ছিল।

বৃষ্টির পানি মরুভূমির মাটিতে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ঠান্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে মিলে সুপ্ত বীজগুলোকে অঙ্কুরোদ্গমের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। এরপর ধীরে ধীরে বালুময় ভূমি ছেয়ে যায় নানা ধরনের ফুলে।

মরুভূমিতে পর্যটকদের ভিড়

আতাকামার এই সাময়িক রূপান্তর এখন মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। বছরের অধিকাংশ সময় যে স্থানকে অনুর্বর ও প্রাণহীন মনে হয়, সেই একই জায়গা ফুলের রঙে বদলে যাওয়ায় সেখানে ছুটে যাচ্ছেন পর্যটক ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।

তবে এই দৃশ্য শুধু সৌন্দর্যের কারণে গুরুত্বপূর্ণ নয়। চরম শুষ্ক পরিবেশেও উদ্ভিদের বীজ দীর্ঘ সময় সুপ্ত অবস্থায় থেকে অনুকূল পরিবেশের অপেক্ষা করতে পারে, আতাকামার এই ঘটনা তারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

অর্থাৎ দীর্ঘ খরার মধ্যেও জীবন পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। উপযুক্ত বৃষ্টি ও আবহাওয়ার অপেক্ষায় মাটির নিচে থাকা বীজ সুযোগ পেলেই আবার জেগে উঠতে পারে। সেই কারণেই আতাকামার ফুলে ভরা এই স্বল্পস্থায়ী দৃশ্য প্রকৃতির অভিযোজনক্ষমতার এক অসাধারণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

September 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G