যেসব অভ্যাস আমাদের স্মৃতিশক্তি নষ্ট করছে
ডেস্ক রিপোর্ট, প্রতিক্ষণ ডটকম:
ইদানিং অনেককেই স্মৃতিশক্তির দুর্বলতায় ভুগতে দেখা যায়। হঠাৎ করেই কিছু একটা মনে করতে চাইলেও হয়তো মনে পড়ছে না। চাবি, মোবাইল, ঘড়ি কোথায় রেখেছেন মনে করতে না পাড়া, কারো নাম ভুলে যাওয়া, একটি কাজ করেছেন কি করেননি সেটা চট করে মাথায় না আসা ইত্যাদি। আমাদের নানা বাজে অভ্যাস এবং কাজের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্বল হচ্ছে স্মৃতিশক্তি।
বিষণ্নতায় থাকা:
নানা কারনেই অনেককে বিষণ্নতায় পড়তে দেখা যায়। বিষণ্নতা আপাত দৃষ্টিতে তেমন ভয়ানক কিছু মনে না হলেও এর রয়েছে সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়া। বিষণ্নতায় ভোগা মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা অনেক কম থাকে। এতে করে ধীরে ধীরে কমে যায় স্মৃতিশক্তি। বিষণ্নতার কারণে অনেকের স্মৃতিশক্তি একেকবারে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও দেখা যায়। তাই বিষণ্ন থাকা বন্ধ করুন। এবং প্রয়োজনে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।
মানসিক দ্বন্দ্বে থাকা:
কোনো একটি কাজ করা উচিত হবে কি হবে না, কে কী ভাববে ইত্যাদি ধরণের কথা ভেবে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে অনেক মানসিক দ্বন্দ্বে পড়ি। এতে আমাদের মস্তিস্কের নিউরন ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে। এতে করে মস্তিস্ক স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়। আর এভাবেই দুর্বল হতে থাকে আমাদের স্মৃতিশক্তি। তাই মানসিক দ্বন্দ্ব থেকে যতোটা দূরে থাকা সম্ভব ততটাই ভালো।
আবেগ প্রকাশ না করা:
অনেকেই আছেন যারা বেশ চাপা স্বভাবের হয়ে থাকেন। সহজে নিজের আবেগ এবং মনের ভাব প্রকাশ করতে পারেন না। মনের ভেতর কী হচ্ছে তা কাউকে বলেও বোঝাতে পারেন না। তাদের স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আমাদের মস্তিস্কের ডান অংশ আবেগ এবং বাম অংশ লজিক নিয়ে কাজ করে। দুটো অংশ সমান কাজ করলে আমরা স্বাভাবিক থাকি। কিন্তু একটি অংশের কর্মক্ষমতা কম হলে আমাদের মস্তিস্কে অনেক চাপ পড়ে। এতে করে মস্তিস্ক স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়। আর এভাবেই দুর্বল হতে থাকে আমাদের স্মৃতিশক্তি।
ড্রাগস, ধূমপান এবং মদ্যপান:
ড্রাগস, ধূমপান এবং মদ্যপান এই তিনটিই স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে দেয়ার জন্য সমান ভাবে দায়ী। নিকোটিন ও অ্যালকোহল আমাদের মস্তিস্কের সাধারণ কর্মক্ষমতা এবং স্বাভাবিক চিন্তা করার শক্তি নষ্ট করে দেয়। যারা ড্রাগস নেন তাদের সাধারণ যুক্তি এবং চিন্তা করার ক্ষমতা অনেক দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে। যারা নিয়মিত ধূমপান ও মদ্যপান করেন তাদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়।
থায়ামিনের অভাব:
আমাদের দেহে থায়ামিনের অভাব হলে আমরা স্মৃতিশক্তি দুর্বলতা রোগে পড়ে থাকি। থায়ামিন এবং ভিটামিন-বি আমাদের নার্ভ সিস্টেমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। থায়ামিনের অভাবে নিউরোলজিক্যাল ডিজঅর্ডারে ভুগতে দেখা যায় অনেককে। তাই স্মৃতিশক্তির দুর্বলতাকে অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
পর্যাপ্ত না ঘুমানো:
অনেকেই কাজের ব্যস্ততায় অনেক কম ঘুমান যা পরবর্তীতে অনিদ্রা রোগে পরিণত হয়। এছাড়াও ঘুম কম হওয়া এবং না হওয়ার ওপর একটি মারাত্মক প্রভাব হলো স্মৃতিশক্তি নষ্ট হওয়া। আমরা যখন ঘুমাই তখন আমাদের মস্তিস্কে নতুন নিউরনের সৃষ্টি হয় যা আমাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে সঠিক রাখে। কিন্তু ঘুম কম বা না হলে মস্তিস্ক তা করতে পারে না ফলে আমাদের স্মৃতিশক্তি দিনের পর দিন দুর্বল হতে থাকে। যা পরবর্তীতে শর্ট টার্ম মেমোরি লসের মতো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই প্রতিদিন একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত।
প্রতিক্ষণ/এডি/পাভেল
























