রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের হিজাব নিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য

প্রকাশঃ অক্টোবর ২৮, ২০২৫ সময়ঃ ৮:২৯ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:৫৪ অপরাহ্ণ

রাকিব হাসান:

মার্শাল ম্যাকলুহানের সেই বিখ্যাত গল্পটা তো অনেকেই জানেন। একদিন এই যোগাযোগ তত্ত্বের মহারথী এতটাই চিন্তায় ডুবে গিয়েছিলেন যে কমিউনিকেশন থিয়োরি ভাবতে ভাবতে ভুল করে কোনো পোশাক ছাড়াই, অর্থাৎ পুরোই নগ্ন অবস্থায় ক্লাসে ঢুকে পড়েছিলেন। তিনি নিজেই টের পাননি, যতক্ষণ না ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছিল। সেটা নিছকই একটা নিরীহ ভুলের হাস্যকর গল্প, যা শেষমেষ সবাইকে একধরনের রসিকতার খোরাক জুগিয়েছিল।

কিন্তু এই গল্পের পাশাপাশিই যখন আমরা দেখি যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আল মামুন ঘোষণা দেন যে তিনি মদের বোতল হাতে নিয়ে ক্লাসে যাবেন, তখন সেটি আর কোনো নিরীহ ভুল নয়। এটি একটি সচেতন সিদ্ধান্ত, যা আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে সরাসরি আঘাত করে।

ম্যাকলুহানের ভুল ছিল নিষ্পাপ, কিন্তু একজন শিক্ষকের এমন ইচ্ছাকৃত ঘোষণা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা মানে যা
খুশি তাই করা নয়। শিক্ষকের দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীদের সামনে এমন উদাহরণ রাখা, যা সম্মান ও মূল্যবোধের পরিপন্থী না হয়।
ম্যাকলুহানের গল্প আমাদের হাসায়, কিন্তু আল মামুনের এই স্ট্যাটাস আমাদের ভাবায় যে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার দায়িত্ব কতটা
সুক্ষ্মভাবে পালন করা উচিত।

আজকের দিনে একটি স্ট্যাটাস যেন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল, স্বাধীনতা আর দায়িত্বশীলতার মাঝের সূক্ষ্ম সীমারেখাটা কোথায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক যখন ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে তুচ্ছ করে ঘোষণা দেন যে তিনি মদের বোতল হাতে ক্লাসে যাবেন, তখন সেটা নিছকই একটি ব্যক্তিগত মত নয়, বরং সমাজের মূলে একটি তীক্ষ্ণ ব্যাঙ্গাত্মক তীর।

শিক্ষক মানে শুধু পাঠদানকারী নন, তিনি সমাজের জন্য আদর্শ স্থাপনকারী। কিন্তু যখন সেই শিক্ষক নিজের স্বাধীনতার নামে
অন্যের ধর্মীয় অনুভূতি বা সামাজিক মূল্যবোধকে অবমাননা করেন, তখন সেটা তাঁর ব্যক্তিগত সীমা ছাড়িয়ে বৃহত্তর সমাজের
প্রতি একধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়।

আমাদের ধর্মীয় এবং সামাজিক ঐতিহ্যকে ব্যঙ্গ করে কেউ যদি শিক্ষকের আসনেই বসে এই বার্তা দেন, তাহলে শিক্ষার সেই আসন নিজেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

তাই এই ধরনের স্ট্যাটাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা মানে দায়িত্ববোধের সাথেই চলা। যদি কোনো শিক্ষক এই কলাম পড়েন, তবে আশা করি এটি তাঁর মনে একটুও সাড়া দেবে— যে শিক্ষকের প্রকৃত ভূমিকা হলো সামাজিক সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা, বিদ্রূপ ছুঁড়ে দেওয়া নয়।

 

নিচে ইউটিউব লিংক দেওয়া হল:

———————-

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G