লিফলেটে নিয়োগের নামে প্রতারণা বাণিজ্য! (পর্ব-১)
জহির উদ্দিন মিশু
দেয়ালে লিফলেট, ব্যানারে লোভনীয় চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করেছেন। হয়তো কোনো ক্ষেত্রে শর্ত অনুযায়ী ‘জামানত’ হিসেবে টাকাও দিতে হয়েছে। একদিন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে আপনার মুঠোফোনে আপনাকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হলো। সাক্ষাৎকারও আপনি ভালো দিয়েছেন। ভাবছেন, এবার বুঝি এই সোনার হরিণ ধরা দিচ্ছে হাতে, হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। কিন্তু এই আনন্দক্ষণ অতি সামান্য সময়ের জন্যও হতে পারে। একটু সতর্ক ও সচেতন না হলে আপনি হতে পারেন প্রতারিত।
ইদানিং বাস, যাত্রী ছাউনী, ওয়াল ও মার্কেটের দেয়ালে লিফলেট ও চাকরির খবর প্রকাশিত হওয়া সাপ্তাহিক এমনকি প্রথম শ্রেনীর কিছু দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে চাকুরী প্রার্থী বেকার যুবক-যুবতীদের, বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে। একথা অনস্বীকার্য যে, প্রায় ষোল কোটি জনসংখ্যার এই দেশে হাজারো সমস্যার মাঝে বেকার সমস্যা অন্যতম।
যেভাবে মানুষ বাড়ছে সেভাবে বাড়ছে না তাদের কর্মসংস্থান। বাংলাদেশ বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ। এদেশে প্রতি বছর বাড়ছে বেকারের সংখ্যা। আর এই দুঃসময়ে যেখানে বেঁচে থাকার মতো একটা কাজ পাওয়াই কষ্টসাধ্য, সেখানে লিফলেট ছাপিয়ে চাকরি দেয়ার প্রস্তাব হয়তো শহুরে মানুষের কাছে সহজে বোধগম্য কিন্তু সদ্য গ্রাম থেকে আসা একজন বেকার যুবকের কাছে এটা সোনার হরিণ পাওয়ার মতোই ব্যাপার।
প্রতিষ্ঠানগুলো বাহারি ঢংয়ের বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রামগঞ্জ থেকে আসা সহজ সরল চাকুরী প্রত্যাশি বেকার যুবক-যুবতীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
আর এই সব বিজ্ঞপ্তি এমনভাবে লাগানো হয়েছে যাতে কারো দৃষ্টি না এড়ায়। বেকার ও ছাত্রদের অগ্রাধিকার দিয়ে ছাপানো এই সব বিজ্ঞপ্তিতে বেতন কাঠামোও চোখে পড়ার মতো। বেশির ভাগক্ষেত্রে চাকরির খবর প্রকাশিত হওয়া সাপ্তাহিক পত্রিকা, বাস, যাত্রী ছাউনী, ওয়াল ও মার্কেটের দেয়ালে লিফলেট এসব প্রতিষ্ঠানের নামে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। মাঝেমধ্যে দেওয়া হয় কিছু দৈনিক পত্রিকায় সাংবাদিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানুষকে সহজে ফাঁদে ফেলে চাকরির পদের পাশে লোভনীয় বেতনের অংক দেওয়া থাকে। আর এ বিজ্ঞাপন দেখে বে
কারেরা হাজির হলে বলা হয়, ‘আপনার চাকরি নিশ্চিত’। সঙ্গে সঙ্গে একটি ফরম দেওয়া হয় পূরণ করতে। এজন্য নেওয়া হয় অন্তত ৫০০ টাকা। এভাবেই প্রতারণা শুরু।
সম্প্রতি এ ধরনের প্রতারণার শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোমেন খান। তিনি বলেন, কলাভবনের সামনে ইমাশন নামে একটি বিজ্ঞাপন দেখি। তাতে দিনে ৫ ঘণ্টা কাজ করে মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতনের কথা উল্লেখ করা হয়। যোগাযোগ করে কাকরাইলে তাদের কার্যালয়ে গেলে তারা সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। সেখানে প্রায় দুই মাস কাজ করলেও কোনো বেতন পাইনি। পাওনা চাইতে গেলে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পরে সেখান থেকে চলে আসি। এছাড়া প্রতারণার শিকার ঢাকা কলেজের ছাত্র মঈনুল ইসলাম বলেন, চাকরিতে যোগদানের আগে ফরম পূরণ বাবদ একজন আমার কাছ থেকে ৫০০ টাকা নেয়। পরদিন ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। একই অভিজ্ঞতা হয়েছে জহুরুল হক হলের ছাত্র শহীদুল ইসলাম ও তার কয়েক বন্ধুর। এ প্রসঙ্গে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের উপ-পরিচালক মেজর রুম্মান মাহমুদ জানান, আটকরা আকর্ষণীয় বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভিকটিমদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, রাজধানীজুড়েই রয়েছে এ রকম চক্র। এরা চাকরির লোভনীয় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নানাভাবে চাকরিপ্রার্থী মানুষদের হয়রানি করছে। এদের বিরুদ্ধে র্যাব সব সময়ই তৎপর রয়েছে।






















