সন্তানের সাথে বাবার সম্পর্ক
ডেস্ক রিপোর্ট, প্রতিক্ষণ ডটকম:
মেয়েটা সারা দিন মহা আনন্দে আছে। অপেক্ষা করছে বাবার জন্য। পরীক্ষার ফল বেরিয়েছে, বাবাকে দেখিয়ে তবেই তার শান্তি। বাবা ফিরলেন সন্ধ্যার পর। মেয়ে অসীম আগ্রহে বাবার হাতে ধরিয়ে দিল রিপোর্ট কার্ড। বাবা দেখলেন মনোযোগ দিয়ে। তারপর গম্ভীর গলায় বললেন, ‘আরও ভালো করতে পারতে।’
কিংবা ছেলেটা ক্রিকেট খেলায় পর পর দুই বলে দুটি ছক্কা মেরে মহা উত্তেজিত! বাবাকে এল সে সংবাদ দিতে।
বাবা তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বললেন, ‘আরে! এই তো সেদিন যুবরাজ সিং এক ওভারে ছয়টা ছয় মেরেছে। তুমিও ওভারে ছয়টা ছয় মেরে তারপর কথা বলতে এসো।’
বাবার কাছে সন্তান চায় নির্ভরতা। সন্তানদের দিকে বাবার একটু নজর, তাদের কথাবার্তার বন্ধু হয়ে মিশে যাওয়া, তাদের কাজের ক্ষেত্রে পরামর্শ দেওয়া—সন্তানের মনে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দেয়। আর যদি উল্টো হয়, অর্থাৎ বাবার তিরস্কারে যদি বেড়ে ওঠে সন্তান, তাহলে সে আর আত্মবিশ্বাসী হতে পারে না । ফলে ব্যক্তিত্বও গড়ে ওঠে না ।
মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কটা জন্মের আগে থেকেই। সন্তান যখন গর্ভে বেড়ে উঠছে, তখনই মায়ের শরীরে ও অনুভবে সন্তানের অস্তিত্ব। বাবা কিন্তু ধীরে ধীরে সন্তানের কাছাকাছি হন। এমনকি কোনো কোনো বাবা জন্মের পর সন্তানের প্রতি রুষ্টও হন, স্ত্রীর ভালোবাসা ভাগ হয়ে যাচ্ছে বলে। রাতে যদি সে শিশু কাঁদে, বাবা তাকে কোলে না নিয়ে গলায় বিরক্তি ঢেলে দিয়ে মাকে বলেন, ‘ওকে সামলাও তো! কানটা ঝালাপালা করে দিল!’
এই শিশুই প্রকৃতির নিয়মে একসময় বাবার কাছাকাছি হয়। বিশেষ করে বেড়ে ওঠা, কাজ বেছে নেওয়ার সময়টাতে বাবার সঙ্গ, বাবার পরামর্শ সন্তানের জীবনের ইতিবাচক গুণাবলিকে প্রগাঢ় করে। শিক্ষক, আত্মীয়, বন্ধুদের কাছ থেকে নেওয়া পরামর্শও কাজে লাগে, কিন্তু এ সময় সন্তানের প্রতি বাবার দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক হলে সন্তান নির্ভরতা পায় না। অনেক বাবাই সন্তানের প্রতি এ দায়িত্বটি পালন করতে পারেন না। কাজের চাপে, রুটিরুজির চিন্তায়, সংসার সামলে বাবা সন্তানের দিকে মনোযোগ দিতে পারেন কম।
সন্তান আগ্রহ নিয়ে কিছু বলল, বাবা একেবারেই পাত্তা দিলেন না। বাবা বুঝতেও পারলেন না, এই একটু অবহেলা সন্তানের মনকে করে তুলছে বিষণ্ন, কাজকে করে তুলছে স্থবির। তার উৎসাহে ভাটা পড়ছে । সন্তানের জন্য বাবা কতটা দরকারি, তা বাবা নিজেই বোঝেন না। যখন বুঝতে পারেন, তখন হয়তো দেরি হয়ে যায়, মনের বন্ধন শিথিল হয়ে যায় সন্তানদের সঙ্গে ।
তাই বাবাকে অবশ্যই বন্ধুর মতো হতে হবে। সন্তানের জীবন-যাপনে পাশ থেকে বন্ধুর মতো বুদ্ধি-পরামর্শ দিতে হবে। এখনকার বাবারা অনেক বেশি কর্মব্যস্ত সময় কাটান। সারাদিন অফিস করে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফেরেন কিংবা বাসায় এসেও অফিসের কাজ করেন। সন্তানকে দেয়ার মতো তার কাছে কোনো সময়ই আর থাকে না। ফলে বাবার সঙ্গে সন্তানদের দূরত্ব তৈরি হয়। আর ছোটবেলায় সম্পর্কের যে দূরত্ব সে দূরত্ব পরে পরিণত বয়সেও দূর হয় না। তাই আদর্শ বাবা মাত্রই সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুভাবাপন্ন হবেন সেটাই কাম্য।
প্রতিক্ষণ/পাভেল
























