সমাবর্তনের টুপি কেন চারকোনা? জানুন এর পেছনের ইতিহাস

প্রকাশঃ জুন ১২, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৫৮ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি হলো সমাবর্তন। দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের পর ডিগ্রি অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে এদিন শিক্ষার্থীরা বিশেষ পোশাকের পাশাপাশি মাথায় একটি পরিচিত চারকোনা টুপি পরেন। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, সমাবর্তনের টুপিটি গোল না হয়ে চারকোনা কেন?

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ রীতি অনুসরণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্নাতক ঘোষণা করার পর টুপির সঙ্গে ঝুলে থাকা ফিতা বা ট্যাসেল ডান দিক থেকে বাঁ দিকে সরিয়ে নিতে বলা হয়। এটি মূলত শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করে ডিগ্রি অর্জনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

অনুষ্ঠানের শেষে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দ প্রকাশের অংশ হিসেবে একসঙ্গে টুপি আকাশে ছুড়ে দেন। এই দৃশ্য সমাবর্তনের অন্যতম পরিচিত প্রতীক হয়ে উঠেছে।

কোথা থেকে এলো এই টুপি?

সমাবর্তনের টুপিটির প্রচলিত নাম ‘মর্টারবোর্ড ক্যাপ’। এর ইতিহাস কয়েক শতাব্দী পুরোনো। ইতিহাসবিদদের মতে, ইতালিতে ব্যবহৃত ধর্মীয় যাজকদের ‘বাইরেটা’ নামের এক ধরনের টুপি থেকে এর ধারণার জন্ম। মধ্যযুগে যাজক ও পণ্ডিতদের মধ্যে এ ধরনের টুপি জনপ্রিয় ছিল।

তবে শুরুতে এই টুপির আকৃতি বর্তমানের মতো ছিল না। সময়ের সঙ্গে এর নকশায় পরিবর্তন আসে এবং সপ্তদশ শতাব্দীতে ধীরে ধীরে চ্যাপ্টা ও প্রশস্ত উপরের অংশবিশিষ্ট রূপ লাভ করে।

ঐতিহাসিকদের মতে, ইংল্যান্ডে রাজা দ্বিতীয় চার্লসের শাসনামলে যাজক ও শিক্ষিত সমাজের সদস্যরা তাঁদের টুপির উপরের অংশ বড় করতে শুরু করেন। পরে সেই অংশকে সমতল ও স্থির রাখতে শক্ত কাঠামো ব্যবহার করা হয়। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে বর্তমানের চারকোনা আকৃতির মর্টারবোর্ড ক্যাপের বিকাশ ঘটে।

‘মর্টারবোর্ড’ নামের কারণ

এই টুপির নামও এসেছে এর আকৃতির সঙ্গে মিল রেখে। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত গাঁথুনির মসলা বহনের জন্য এক ধরনের সমতল বর্গাকার বোর্ড ব্যবহার করা হতো, যাকে বলা হতো মর্টারবোর্ড। সমাবর্তনের টুপির উপরের অংশ দেখতে সেই বোর্ডের মতো হওয়ায় এর নাম হয়ে যায় মর্টারবোর্ড ক্যাপ।

উনিশ শতকে ইংল্যান্ডের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মজার ছলে এই নাম ব্যবহার করতে শুরু করেন। পরবর্তীতে সেটিই স্থায়ী পরিচয়ে পরিণত হয়।

কীভাবে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হলো?

একসময় ইংল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একাডেমিক পোশাকের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম ছিল। উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য চারকোনা টুপি ছিল মর্যাদার প্রতীক। পরে সাধারণ স্নাতকদের মধ্যেও এটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজের শিক্ষাব্যবস্থার প্রভাব অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একই ধরনের পোশাক ও টুপির প্রচলন করে। সেখান থেকে ধীরে ধীরে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এই ঐতিহ্য ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তনের সময় একই ধরনের চারকোনা টুপি ব্যবহার করা হয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও এই টুপির নকশা এবং ট্যাসেল সরানোর ঐতিহ্য এখনো সমানভাবে টিকে আছে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

June 2026
SSMTWTF
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930 
20G