সেশনজটে চবি’র শিক্ষার্থীরা
শরীফ, চবি প্রতিনিধি :
সোনালী ভবিষ্যত গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও সেশনজটের কারণে সে স্বপ্ন পূরণে হোচট খেতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে সেশনজটে বিপাকে ২২হাজার শিক্ষার্থী। কোন কোন বিভাগে প্রথমবর্ষ পরীক্ষা হচ্ছেনা দেড় বছরেও।
৭টি অনুষদের ৪৪টি বিভাগের মধ্যে ৩৮ টি বিভাগের শিক্ষার্থীরাই সেশনজটে পড়েছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি, বাংলা , অর্থনীতি, ব্যবস্থাপনা, উদ্ভিদ বিজ্ঞান, প্রানিবিদ্যা, মেরিন ফরেস্টি বিভাগ সহ ৩৮ বিভাগ ও অনার্স শেষ করতে সময় লাগে পাঁচ বছরেও অধিক।
সেশনজট নিয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল জানান, আমার বিভাগে অনার্স শেষ করতে সময় লেগেছে প্রায় ৭ বছর। আর কোনো বিভাগে এমন আছে কিনা জানা নেই। সেশনজটের কারণে চাকুরীর বাজারে আমাদের পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাইলে তিনি ছুটিতে আছেন বলে তেমন কিছু জানা নেই বলে জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানায়, কলা অনুষদ ও সংস্কৃত বিভাগে ১৩-১৪ সেশনের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা হচ্ছেনা দেড় বছরেও। এর ফলে শিক্ষকদের ও ক্লাসে নিয়মিত পাঠদানে তেমন কোনো আগ্রহ নেই। তবে তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র শিক্ষকদের অবহেলার কারণেই পরীক্ষা বিলম্বিত হচ্ছে।
সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান শান্তি রানী হালদার বলেন, আমি এবিষয় নিয়ে কিছু বলতে চাই না।
সমাজতত্ব বিভাগের ছাত্র হাসিবুর রহমান বলেন, প্রথমবর্ষ শেষ করতে সময় লেগেছে প্রায় ১৬ মাসেরও বেশী। আর এভাবে চলতে থাকলে আমাদের অনার্স শেষ করতে সময় লাগবে পাঁচ বছরেরও বেশী।
বিজ্ঞান অনুষদের সব কটি বিভাগে দুই বছর অতিরিক্ত সময় নিয়েও শেষ হচ্ছেনা অনার্স-মাস্টার্স। জীববিজ্ঞান অনুষদ, মনোবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণীবিদ্যা বিভাগে শেষ করতে সময় লাগে প্রায় ছয় বছর।
সেশনজটের কারনে অনেক শিক্ষার্থী যথাসময়ে তাদের ছাত্রজীবন শেষ করা নিয়ে চিন্তিত। নিয়মিত পরীক্ষা না হওয়ায় শিক্ষকরাও নিয়মিত পাঠদানে মনোযোগী নয় বলেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে।
সেশনজট নিয়ে ভিসি’র সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
প্রতিক্ষণ/এডি/শরীফ/নুর/বাদল
























