হুইলচেয়ারে করেই বেনাথাস যাচ্ছেন মহাকাশ যাত্রায়

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ২০, ২০২৫ সময়ঃ ৬:৩৪ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৬:৩৪ অপরাহ্ণ

একদিন পাহাড়ের পথে ছুটছিল মোটরসাইকেল। মুহূর্তের এক দুর্ঘটনা বদলে দেয় পুরো জীবন। হুইলচেয়ারে বন্দী হয়ে পড়েন তরুণ প্রকৌশলী মাইকেলা বেনাথাস। অনেকের কাছে যেখানে সবকিছু থেমে যাওয়ার গল্প শুরু হয়, সেখান থেকেই শুরু হয় তার আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন।

আজ সেই স্বপ্নই বাস্তব হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের জেফ বেজোসের মহাকাশ প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিন প্রথমবারের মতো একজন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী নারীকে মহাকাশে পাঠাতে যাচ্ছে। আসন্ন এনএস-৩৭ মিশনে ‘নিউ শেফার্ড’ রকেটে আরও পাঁচজনের সঙ্গে মহাকাশে যাত্রা করবেন মাইকেলা বেনাথাস। এই যাত্রার মাধ্যমে তিনি হবেন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী প্রথম নারী প্রকৌশলী, যিনি মহাকাশের সীমানা ছুঁবেন।

২০১৮ সালে পাহাড়ি এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার পায়ে স্থায়ী ক্ষতি হয়। চিকিৎসা, পুনর্বাসন আর দীর্ঘ মানসিক লড়াইয়ের পরও তিনি নিজের পরিচয় বদলাতে দেননি। হুইলচেয়ার তার গতি কমিয়েছে, কিন্তু স্বপ্ন ছোট করেনি।

মাইকেলা পেশায় একজন মহাকাশ ও মেকাটনিক্স প্রকৌশলী। প্রযুক্তির সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধু বইয়ে নয়, জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে। এবার সেই জ্ঞান আর সাহস তাকে নিয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ছাড়িয়ে।

এই অভিযানে কোনো স্পেস স্টেশনে থামা নয়। রকেটটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার ওপরে উঠে কিছু সময় অবস্থান করবে, তারপর ফিরে আসবে পৃথিবীতে। আন্তর্জাতিকভাবে এই উচ্চতাকেই মহাকাশের সূচনা ধরা হয়।

ব্লু অরিজিন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মহাকাশ ভ্রমণের সুযোগ দিলেও এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। যদিও এনএস-৩৭ মিশনের খরচ প্রকাশ করা হয়নি, তবে আগের যাত্রীদের প্রত্যেকের জন্য খরচ হয়েছে আনুমানিক ২ থেকে ৩ লাখ মার্কিন ডলার। জানা গেছে, মাইকেলার সঙ্গে যাত্রা করা ছয়জনের মধ্যে অন্তত দুজন এই অভিযানের অর্থায়নে সহায়তা করেছেন।

এই যাত্রা শুধু একটি রকেটের উড্ডয়ন নয়। এটি লাখো শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য একটি প্রশ্ন—সীমাবদ্ধতা কি সত্যিই স্বপ্ন থামাতে পারে? মাইকেলা বেনাথাসের উত্তর স্পষ্ট—না।

হুইলচেয়ার মাটিতে, কিন্তু তার স্বপ্ন এখন আকাশ ছাড়িয়ে।

প্রতি / এডি /শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

April 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930 
20G