ফেরা

প্রকাশঃ মে ১০, ২০১৫ সময়ঃ ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৫:২৬ অপরাহ্ণ

শ্বেতা শতাব্দী এষ

ma esa -কি খাস তুই ওখানে?

-গ্লাস ভর্তি কাঁচা রোদের শরবত্‌।

-আর?

-তার সাথে স্বপ্ন ক্ষোভ অভিমান আর দুঃখ মিশিয়ে খাই !

-তাই ? এতো দুঃখ কিসের রে তোর?
সৌম্য মিটি মিটি হাসে !

ভাবে, তুমি যদি জানতে, তোমার ছেলের দুনিয়াটা

কেমন করে একটা জাদুবাস্তবের দুনিয়া হয়ে যাচ্ছে,

কেন সে ধীরে ধীরে হয়ে যাচ্ছে-

জীবন্ত মৃত্যুচিহ্ন- পাথরের অপূর্ব ভাস্কর্য

উল্টানো নৌকা- সমুদ্র থেকে মুখ ফেরানো !

 

ওই লম্বা সরু আঙ্গুলগুলো কতদিন পর

তাকে ভাত খাইয়ে দিচ্ছে !

-মা, এবার যাবার সময় তোমার গায়ের ঘ্রান

একটা বোতলে ভরে দিও ।

এইবার মায়ের চোখেও হাসি l

ছেলেটা পাগল তার ! কি রোগা হয়ে গেছে তারপরও

কি সুন্দর-ই না লাগছে তাকে আর

এই চোখ দু’টোতে যেন রাজ্যের গল্প লিখা থাকে !

মা আবার কথা তোলে,

-আজ তো ট্রেন লেট করেনি রে?

-না মা, বাংলাদেশের ট্রেন এখন তোমার মতো পাংচুয়াল হয়ে গেছে !

-তাই তো দেখা যাচ্ছে !

 

সৌম্য কথার চেয়ে ভাবে বেশি তাই কথা চালিয়ে যাওয়া

কঠিন লাগে মায়ের কাছে ।

সৌম্যর কাছে ‘মা’ আকাশে হারিয়ে যাওয়া ঘুড়ির মতো

যতই নাটাইয়ের সুতো গুছিয়ে আনতে চায়

মায়ের কাছে তার ফেরা হয় না-

ক্রমশ হারাতে থাকে কী যেন,

বুকের বামপাশে ব্যথা করে খুব !

কাউকে কিছুই বোঝানো যায় না

 

খাওয়া শেষে অন্ধকার ঘরে সৌম্যর মাথায় সেই প্রিয় আঙুল,

এই মুহূর্তটাতেই হঠাৎ সৌম্যর নিজেকে

পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় অথচ সুখি একটা পাখি মনে হচ্ছে,

যে এখনো উড়তে শেখে নাই  !

 

ফিরতি ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে যখন

একটার পর একটা মাঠ আর

জোনাকের ঝাঁক্‌ পেছনে ফেলে আসছিল, একটা বুনো অনুভূতি

সৌম্যকে নাড়া দেয়, ভাবে-

জীবনে আসলে কিছুই হারায় না

 

প্রতিক্ষণ/এডি/আরেফিন

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G