চবি শিক্ষকদের প্রতিবাদ সমাবেশ

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৫ সময়ঃ ৭:৩৬ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৭:৩৬ অপরাহ্ণ

চবি প্রতিনিধি

cuবিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের বক্তব্যর প্রতিবাদে আজ সমাবেশ পালন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষক সমিতি। সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে শেষে মিছিল করেন শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনায় অর্থমন্ত্রী শিক্ষকদের আন্দোলন নিয়ে বলেন, দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত জনগোষ্ঠি জ্ঞানের অভাবে আন্দোলন করছে। এই কর্মবিরতির কোন জাস্টিফিকেশন নেই।তারা জানে না পে-স্কেল তাদের জন্য কি আছে, কি নেই। নতুন পে-স্কেল কীভাবে শিক্ষকদের মর্যদাহানি করেছে-সে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি শিক্ষকদের পদোন্নতিতে দুর্নীতির ও অভিযোগ আনেন তিনি।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ আবুল মনছুর এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ড. কাজী এস. এম. খসরল আলম কুদ্দুসী এর সঞ্চালনায় উক্ত কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. অরণ কুমার দেব, প্রফেসর ড. জিনবোধি ভিক্ষু, প্রফেসর বেনু কুমার দে, প্রফেসর ড. সেলিনা আকতার,কে এম তফজল হক, এবিএম আবু নোমান, সুকান্ত ভট্টাচার্য সহ আরো অনেকে।

অর্থমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যকে মানহানিকর দাবি করে ক্ষুদ্ব প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে শিক্ষকরা। সমাবেশ বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রীর অবমাননাকর এ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত অর্থমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় সম্বন্ধে সম্যক তথ্য না নিয়ে বেফাঁস ও অশালীন মন্তব্য করে পুরো শিক্ষক সমাজকে অপমানিত করেছেন। তিনি জাতির জনক এর অবদান ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশ এর মাধ্যমে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণ করার হীন মনোভাব পোষণ করে পক্ষান্তরে জাতির জনককেই অপমানিত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক স্বীকৃত পদোন্নতির সুনির্দিষ্ট এবং কঠিন নীতিমালা রয়েছে এবং উচ্চতর ডিগ্রী, মানসম্পন্ন প্রকাশনা ও অভিজ্ঞতা ব্যতিরেকে এখানে প্রফেসর হওয়া সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন। দুর্নীতির সাথে আমলাতন্ত্রের সম্পর্ক এদেশের কারও অজানা নয়। কিন্তু আমলাতন্ত্রের সংস্কার না করে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের পদোন্নতির নীতিমালাকে দুর্নীতি আখ্যা দেয়া দুঃখজনক। প্রায় সাড়ে তিন মাসের শান্তিপুর্ণ আন্দোলন এবং ন্যায্য দাবিসমূহের প্রতি কোন গুরত্ব না দিয়ে ৮ম জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণ করায় ক্ষুব্ধ শিক্ষক সমাজের প্রতি অর্থমন্ত্রীর এই অবমাননাকর ও অশালীন মন্তব্য শিক্ষক সমাজের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। তাই তাঁরা অনতিবিলম্বে অর্থমন্ত্রীর এ বক্তব্যের প্রত্যাহার এর জোর দাবি জানিয়েছে।

চবি শিক্ষক সমিতির সভাপ্রতি প্রফেসার ড.আবুল মনছুর বলেন,নতুন বেতন কাঠামোয় আমাদের পদমর্যদা নামিয়ে দেয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের

সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।বেতন কাঠামোয় দুই ধাপ নামিয়ে অবনমনের সিদ্বান্ত বাতিল না করে অর্থমন্ত্রী উল্টো আমাদেরকে নিয়ে গনমাধ্যম বিরুপ ও মানহানিকর মন্তব্য বরেছেন।মাননীয় মন্ত্রীকে বলতে চাই আপনি বয়স্ক হয়েছেন।আপনার অবসর নেওয়ার সময় হয়েছে।সরকার যাতে ঠিকঠাকভাবে চলতে পারে তার জন্য আপনি এবার ইস্তফা দেন।

প্রস্তাবিত অষ্ঠম বেতন কাঠামোকে সর্বনিকৃষ্ঠ বেতন কাঠামো দাবি করে চবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসার ড.কাজী এস এম খসরুল কুদ্দসী বলেন, অষ্ঠম বেতন কাঠামো বাংলাদেশের এ যাবত কালের সর্বনিকৃষ্ঠ বেতন কাঠামো।

তিনি আরো বলেন, অর্থমন্ত্রী স্বৈরশাসক এরশাদের আমলের মন্ত্রী ছিলেন।উনি নিজেই একজন সাবেক আমলা।যে কারনে বেতন কাঠামোয় উনি শিক্ষকদের অবনমন করে আমলাদের প্রাধান্য দিয়েছেন।

শিক্ষকবৃন্দ আরো বলেন, এ ধরনের মন্তব্য খুবই লজ্জাকর। যা শিক্ষকদের শান্তিপূর্ন কর্মসূচিকে উস্কানিতে পরিনত করবে।এ ধরনের মন্তব্য না করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন ঘোষিত প্রস্তাবিত অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন দুই ধাপ নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে,যে কারনে অবমাননাকর এ বেতর কাঠামোকে পুন-নির্ধারণ সহ চার দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা।

প্রতিক্ষণ/এডি/ডিএইচ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G