এখন থেকে খাওয়া যাবে ইনসুলিন!
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ইনসুলিন নেওয়া মানেই এতদিন ছিল নিয়মিত ইনজেকশনের ঝামেলা। প্রতিদিন শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে সুচ ফোটাতে হয়, যা অনেকের জন্য কষ্টকর এবং ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে। তবে এই পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে নতুন একটি উদ্ভাবন।
জাপানের একদল বিজ্ঞানী প্রথমবারের মতো ইনসুলিনকে ট্যাবলেট আকারে কার্যকরভাবে ব্যবহারের পথ দেখিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই ‘ওরাল ইনসুলিন’ তৈরির চেষ্টা চলছিল, কিন্তু বড় সমস্যা ছিল—মুখে খাওয়ার পর এটি শরীরে ঠিকভাবে কাজ করত না।
সাধারণভাবে ইনসুলিন হরমোন অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ থেকে তৈরি হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই হরমোনের ঘাটতি বা কার্যকারিতা কমে যায়। তখন বাইরে থেকে ইনসুলিন দিতে হয়, যা এতদিন ইনজেকশনের মাধ্যমেই দেওয়া হতো।
সমস্যা হলো, ইনসুলিনকে ট্যাবলেট হিসেবে খেলে তা পরিপাকতন্ত্রে ঢোকার আগেই ভেঙে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে এটি কার্যকর থাকে না। এই বাধা কাটাতেই নতুন সমাধান নিয়ে এসেছেন গবেষকেরা।
জাপানের কুমামোতো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ‘ডিএনপি পেপটাইড’ নামে একটি বিশেষ উপাদান তৈরি করেছেন, যা ইনসুলিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এটিকে নিরাপদে পরিপাকতন্ত্র পেরিয়ে অন্ত্রে পৌঁছে দিতে পারে। ফলে ইনসুলিন তার কার্যকারিতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিকভাবে এই প্রযুক্তি ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। সেখানে দিনে একবার ইনসুলিন ট্যাবলেট দেওয়ার পর কয়েকদিন পর্যন্ত রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি সফল হলে ডায়াবেটিস চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। নিয়মিত ইনজেকশনের পরিবর্তে ট্যাবলেটই হতে পারে সহজ সমাধান।
তবে এখনও এই গবেষণা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। মানুষের ওপর পরীক্ষার ফলাফল জানতে আরও সময় লাগবে। সবকিছু ঠিকভাবে সফল হলে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি হতে পারে অনেক বড় স্বস্তির খবর।
প্রতি /এডি /খালিদ













