হজ ও ওমরাহ সহজ করতে মক্কায় নির্মাণ হচ্ছে ইতিহাসের প্রথম বিমানবন্দর
মক্কায় আন্তর্জাতিক মানের একটি বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির কৌশলগত পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক কাঠামো এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়গুলো অনুমোদন পেয়েছে। এই বিমানবন্দর চালু হলে প্রতি বছর হজ ও ওমরাহ পালন করতে যাওয়া বিপুলসংখ্যক মুসল্লির যাতায়াত আরও সহজ, দ্রুত এবং আরামদায়ক হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মক্কা শহর ও আশপাশের পবিত্র স্থানগুলোর উন্নয়ন কার্যক্রম তদারককারী রয়্যাল কমিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আল-রশিদ জানিয়েছেন, বিমানবন্দর নির্মাণের আগে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। কীভাবে এটিকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি বিমানবন্দরে রূপ দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই পরিকল্পনাগুলো সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ কাঠামোও চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও সম্পৃক্ত করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই বিমানবন্দর চালু হলেও জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ আশপাশের অন্যান্য বিমানবন্দরের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বরং সামগ্রিকভাবে পরিবহন ব্যবস্থার ভারসাম্য আরও উন্নত হবে।
এদিকে, শুধু বিমানবন্দর নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়, মক্কার সার্বিক নগর ব্যবস্থাকে আধুনিক ও বাসযোগ্য করে তুলতেও একাধিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আবাসন, অবকাঠামো এবং জনসেবা খাতে উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদেশি দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, এই উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে সন্তুষ্টির হার ৯০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে।
‘স্মার্ট মক্কা’ কর্মসূচির আওতায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হচ্ছে। গ্র্যান্ড মসজিদ এলাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মানুষের চলাচল পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ‘মক্কা ট্যাক্সি’ নামে বিশেষ পরিবহন সেবা চালুর উদ্যোগ রয়েছে। বর্তমানে শহরের বিভিন্ন রুটে শত শত বাস চলাচল করছে এবং শতাধিক স্টপেজ থেকে যাত্রীসেবা দেওয়া হচ্ছে।
পবিত্র স্থানগুলোতেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন জোরদার করা হচ্ছে। গ্র্যান্ড মসজিদের চারপাশে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একাধিক ভবন নির্মাণ, বৈদ্যুতিক এসকেলেটর স্থাপনসহ বিভিন্ন সুবিধা বাড়ানো হবে। আরাফাত ময়দানেও বড় পরিসরে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। মিনায় নির্মাণ করা হবে বহুতল আবাসিক টাওয়ার, যেখানে হাজার হাজার হজযাত্রী অবস্থান করতে পারবেন। এছাড়া আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে মক্কাকেন্দ্রিক হজ ও ওমরাহ যাত্রা হবে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং সময় সাশ্রয়ী। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য পুরো যাত্রাপথই আরও স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠবে।
প্রতি / এডি / শাআ










