ক্লাব ফুটবলে দারুণ সাফল্যের পর এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন ফ্রান্সের তারকা উইঙ্গার উসমান দেম্বেলে। সামনে ২০২৬ বিশ্বকাপ—আর এই আসরেই দেশের জার্সিতে বড় কিছু করার প্রত্যাশা তার।
দেম্বেলের ক্যারিয়ারকে সহজেই দুই ভাগে দেখা যায়। শুরুর দিকে দুর্দান্ত প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে দ্রুতই আলোচনায় আসেন তিনি। তবে ধারাবাহিক চোট তার অগ্রযাত্রাকে বারবার থামিয়ে দেয়। সময়ের সঙ্গে ক্লাব পরিবর্তন এবং নতুন পরিবেশে খেলার সুযোগ তার ক্যারিয়ারে নতুন গতি এনে দেয়।
২০২৫ সালে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্বীকৃতিগুলোর একটি—ব্যালন ডি’অর এবং ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয়ের পরও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা চোটে ভুগেছেন এই ফরাসি ফুটবলার। তবে ২০২৬ সালের শুরু থেকে আবারও নিজের ছন্দে ফিরছেন তিনি এবং নিয়মিতই গোলের দেখা পাচ্ছেন।
ফ্রান্সের ছোট ক্লাবগুলোতে খেলেই দেম্বেলের ফুটবলযাত্রার শুরু। কৈশোরেই তার দক্ষতা নজরে আসে বড় ক্লাবগুলোর। রেনের যুব দলে যোগ দিয়ে নিজেকে আরও পরিণত করেন তিনি। সেখান থেকে খুব অল্প সময়েই জায়গা করে নেন মূল দলে।
এরপর জার্মান ক্লাব বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে যোগ দিয়ে ইউরোপের বড় মঞ্চে নিজেকে তুলে ধরেন। সেখানকার পারফরম্যান্সই তাকে স্পেনের জায়ান্ট বার্সেলোনায় নিয়ে যায়, যেখানে বিপুল অঙ্কের ট্রান্সফার ফিতে তাকে দলে নেয় ক্লাবটি।
ডর্টমুন্ডে প্রথম বড় শিরোপা জয়ের স্বাদ পান দেম্বেলে। পরে বার্সেলোনায় যোগ দিয়ে লা লিগা, কোপা দেল রে ও স্প্যানিশ সুপার কাপসহ একাধিক শিরোপা জেতেন। তবে স্পেনের ক্লাবটিতে তার সময়টা সবসময় মসৃণ ছিল না। ঘনঘন ইনজুরি ও ফিটনেস সমস্যার কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে।
একপর্যায়ে বার্সেলোনায় নিজের জায়গা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে তার জন্য। নানা সমালোচনা ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে সময় কাটানোর পর নতুন অধ্যায় শুরু করেন তিনি।
২০২৩ সালে ফরাসি ক্লাব পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর যেন নতুন করে জন্ম নেন দেম্বেলে। কোচ লুইস এনরিকের অধীনে আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হয়ে ওঠেন তিনি।
বিশেষ করে ২০২৪-২৫ মৌসুমে তার পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। গোল ও অ্যাসিস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে লিগ, কাপসহ ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতাতেও সাফল্য এনে দেন। ওই মৌসুমে সব মিলিয়ে ৫০টির বেশি ম্যাচে অংশ নিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গোল ও অ্যাসিস্ট করেন তিনি।
জাতীয় দলে ভূমিকা ও প্রত্যাশা
ফ্রান্সের হয়ে খুব অল্প বয়সেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন দেম্বেলে (২০১৮)। তবে বড় টুর্নামেন্টে নিজের গোলের খাতা এখনো তেমন সমৃদ্ধ নয়। জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ খেললেও গোলসংখ্যা তুলনামূলক কম, যা তার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে তাই তার ব্যক্তিগত লক্ষ্য স্পষ্ট—বড় মঞ্চে নিজের প্রভাব আরও বাড়ানো। এমবাপেসহ শক্তিশালী স্কোয়াডে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলেই প্রত্যাশা ফরাসি সমর্থকদের।
কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের হতাশা কাটিয়ে আবারও শিরোপার লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত ফ্রান্স। অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির মিশেলে গড়া দলটিতে দেম্বেলের পারফরম্যান্স হতে পারে বড় ফ্যাক্টর।
উত্তর আমেরিকার মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হবে তারা। আর সেই পথচলায় দলের আক্রমণভাগে দেম্বেলের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
প্রতি / এডি / শাআ