পৃথিবী ছাড়েনি আর্টেমিস ২ মিশন

প্রকাশঃ এপ্রিল ১৯, ২০২৬ সময়ঃ ১০:১৭ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:১৭ অপরাহ্ণ

পৃথিবী থেকে চারজন নভোচারী চাঁদের পথে যাত্রা শুরু করেন। কয়েকদিন পরই তারা আবার নিজ গ্রহে ফিরে আসেন। প্রায় ৯ দিন পর তারা আবার ফিরে এলেন নিজ গ্রহে। এখানেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—পৃথিবী তো এই সময়টায় স্থির ছিল না। সূর্যের চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে সে তো অনেক দূরে সরে গেছে। তাহলে মহাকাশযানটি ঠিক কীভাবে ফিরে এল?

আসলে মহাকাশযান কোনো স্থির জায়গায় ফিরে আসে না। বরং পৃথিবীর চলমান অবস্থানকেই লক্ষ্য ধরে তার গতিপথ নির্ধারণ করা হয়। চাঁদকে ঘিরে একটি বক্রপথে ঘুরে এসে আবার পৃথিবীর মহাকর্ষের টানে ঢুকে পড়ে—একটা লুপের মতো পথ সম্পন্ন করে।

পৃথিবী প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩০ কিলোমিটার বেগে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে এটি বিপুল দূরত্ব অতিক্রম করে। এই হিসাব ধরলে মনে হতে পারে, মহাকাশযানকে পৃথিবী ধরতে অতিরিক্ত অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়।

কারণ, মহাকাশযানটি কখনোই পৃথিবীর গতি থেকে আলাদা হয়ে যায় না। এটি শুরু থেকেই পৃথিবীর মহাকর্ষ ক্ষেত্রের ভেতরে থাকে এবং পৃথিবীর সঙ্গে পাওয়া গতিও বহন করে। ফলে পৃথিবী যেমন এগোয়, মহাকাশযানও সেই গতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।

নিউটনের গতির সূত্র অনুযায়ী, কোনো বস্তুর গতি বজায় রাখতে আলাদা করে বল প্রয়োগ করতে হয় না—বরং গতি পরিবর্তনের জন্য বল প্রয়োজন। তাই পৃথিবী থেকে যাত্রা শুরু করার সময় যে গতি মহাকাশযান পায়, সেটি তার সঙ্গে থেকেই যায়। চাঁদের দিকে যেতে অতিরিক্ত বেগ তৈরি করা হলেও পৃথিবীর সঙ্গে থাকা মূল গতি কিন্তু হারিয়ে যায় না।

চাঁদও একইভাবে পৃথিবীর সঙ্গে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে, পাশাপাশি পৃথিবীর চারপাশেও ঘুরছে। তাই মহাকাশযানকে চাঁদের পেছনে দৌড়াতে হয় না। বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই হিসাব করে ঠিক করেন, নির্দিষ্ট সময়ের পর চাঁদ কোথায় থাকবে। সেই অনুযায়ী পথ নির্ধারণ করা হয়, যাতে নির্দিষ্ট বিন্দুতে গিয়ে মহাকাশযান ও চাঁদের অবস্থান মিলে যায়।

চাঁদকে ঘুরে আসার পর মহাকাশযান আবার পৃথিবীর দিকে ফিরে আসে। পুরো যাত্রাতেই এটি পৃথিবীর গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে। তাই আলাদা করে পৃথিবীকে “ধরতে” হয় না—বরং একই গতির ধারায় থেকেই ফিরে আসে নিজের গ্রহে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

20G